সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৭:০১ অপরাহ্ন

সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, মামলা হচ্ছে মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে

সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, মামলা হচ্ছে মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
ছবিতে উমেদার জুয়েল- নকল নবিশ মাহমুদ


বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেটে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইয়ে অসম্পাদিত দলিল সংযোগ ও দলিলের পাতা গায়েব করছে করার অভিযোগে এবার মামলা হচ্ছে মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রেকর্ডরুমের একটি ভলিয়ম বই থেকে জমির আসল দলিলের পাতা সড়িয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এই চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে মাহমুদ চক্র। এতে করে জমির প্রকৃত মালিকগন পরছেন বিপাকে।

গত রোববার ”সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র” শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি চোখে পড়ে সেই জমির মালিকের এক আত্মীয় দক্ষিন সুরমার নোয়াগাওয়ের নয়ন মিয়ার।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা রেজিস্টার মুন্সি মখলিছুর রহমান তাদের বিরুদ্ধে কোরবানী ঈদের পর ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন রের্কড কিপার প্রণয় কান্তি ঘোষ। এঘটনায় এই ভলিয়ম বইটি জব্দ রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনায় নয়ন মিয়াা জানান, কোরবানী ঈদের পর তারাও মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা এবং সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবেন। তারা মাহমুদ চক্রের সবার পিতার নাম ও বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করছেন।

অপরদিকে, সিসি ক্যামেরায় রক্ষিত রেকর্ড রুম থেকে কিভাবে ভলিয়ম বই থেকে দলিলের পাতা গায়েব হচ্ছে? এমন কর্মকান্ডের জন্য অনেকেই রের্কড কিপার প্রণয় কান্তি ঘোষের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। এঘটনায় এই ভলিয়ম বইটি জব্দ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে চক্রটি ভলিয়ম বইয়ে অসম্পাদিত দলিল সংযোগ বা গায়েব করার কাজ দীর্ঘদিন থেকে করে আসছে।

অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতাদের পরিচয় মিলেছে। নকল নবিশ মাহমুদ ও উমেদার জুয়েল এই চক্রের প্রধান। মাহমুদের বাড়ি দক্ষিন সুরমার নোয়াগাওঁয়ে। তার বাবার নাম মাখন মিয়া। এর আগেও ২০১৮ সালে এরকম একটি অপকর্মের কারণে নকল নবিশ মাহমুদ বরখাস্ত হয়েছিলো। বরখাস্ত হবার পরও সে তার চক্র নিয়ে এসব অপর্কম অব্যাহত রেখেছে। মূলত তারাই রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইয়ে দলিল সংযোগ ও দলিলের পাতা গায়েব করাই তাদের কাজ।

মাহমুদের এমন একটি ভয়েস রেকর্ড থেকে বিষয়টি স্পস্ট হয়। এর আগেও এরকম একাধিক কর্মকান্ড মাহমুদ ও জুয়েল টাকার বিনিময়ে করেছে বলে সেই ভয়েস রেকর্ডে স্বীকার করেন মাহমুদ। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একটি দলিল নং- ৪৭৮০/৬৫ দলিলের পাতা মাহমুদ জুয়েলের মাধ্যমে ভলিয়ম থেকে ছিড়ে গায়েব করে দেয়।

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নকল নবিশ মাহমুদ গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। রোবববার রাতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

মাহমুদ এরকম অপকর্ম করে সে বরখাস্ত বলে চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন থেকে। এবার তার কন্ঠের সেই ভয়েস রেকর্ড তার অপকর্মের স্বাক্ষী হচ্ছে।

এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে যাদের নাম উঠে আসছে-তারা বিভিন্ন সময়ে দলিল জালিয়াতি ও রেকর্ড ধ্বংসের সাথে জড়িত। নতুন করে দলিল জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এই চক্রের সন্ধান মিলে।

আরও পড়ুন – সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo