সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

সিলেটে ১০ বছরের শিশুকন্যাকে দিয়ে দেহব্যবসা, গ্রেফতার ৩

সিলেটে ১০ বছরের শিশুকন্যাকে দিয়ে দেহব্যবসা, গ্রেফতার ৩

sylhetlive24.com


সিলেট লাইভ ডেস্ক
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ারপার গ্রামের নিখোঁজ ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে উদ্ধার করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ।

শিশুকন্যাটি গত ঈদুল আজহার ৩ দিন আগে নিখোঁজ হয়েছিলো। এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর তার পিতা গোয়াইনঘাট থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি ও পরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ডায়েরিতে গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পূর্ব পেকেরখাল গ্রামের বতাই মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে করা হয়।

পরে অভিযোগ ও জিডির সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান শিশুকন্যাটির সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। এরপর পার হয় প্রায় এক বছর। বর্তমানে নিখোঁজ শিমুকন্যার বয়স ১০ বছর হয়েছে। অবশেষে ওই শিশুকন্যাটিকে উদ্ধার করেন গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান।

এঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হল-বিয়ানীবাজার উপজেলার বাড়ইগ্রামের সুরুজ আলী ছেলে জসিম উদ্দিন। গুলবাহার হোটেলের ম্যানেজার জকিগঞ্জ উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ওয়াজিদ আলী ও নগরীর শাহীঈদগাহস্থ অনামিকা ৬২ নম্বর বাসায় ভাড়াটিয়া হালিমা।

জানা গেছে, সিলেটে নিখোঁজ হওয়ার পর শিশুটি এক পর্যায়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার লাকসাম গ্রামের হালিমা বেগম নামের এক দেহব্যবসায়ীর হাতে পড়ে। বর্তমানে হালিমা নগরীর শাহীঈদগাহ অনামিকা ৬২ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকে। পরে হালিমা বেগম তুলে দেন খদ্দের বিয়ানীবাজার উপজেলার বাড়ইগ্রামের সুরুজ আলী ছেলে জসিম উদ্দিনের কাছে। জসিম উদ্দিন ওই ১০ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নিয়ে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার গুলবাহার হোটেলের ৫ম তলার ৫০৫ নাম্বার কক্ষে শিশু কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সেদিন কৌশলে শিশুকন্যাটি তার পিতার মোবাইলে ফোন করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ ফোর্স নিয়ে ৩ জুন দিবাগত-রাত থেকে সিলেট শহর ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের সহযোগীতায় জসিম উদ্দিনকে আটক করেন। জসিমউদদীনের দেয়া তত্ত্বের ভিত্তিতে সিলেট শহরের উপশহরস্থ গুলবাহার হোটেলের ম্যানেজার জকিগঞ্জ উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ওয়াজিদ আলীকে আটক করেন। জসিম উদ্দিন ও ওয়াজেদ আলীকে আটকের পর শিশু কন্যাটিকে না পেয়ে তারা উভয়ের সহযোগিতা নিয়ে দেহব্যবসায়ী হালিমাকে মোবাইলে ওই শিশু কন্যাকে বিকাশে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন। হালিমা বেগম ৫ হাজার টাকার চুক্তি মতো শিশু কন্যাটিকে নিয়ে হোটেল গুলবাহারে যান। এসময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা পুলিশ দল হালিমাকে গ্রেফতার করে। এবং শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ার পার গ্রামের ৯ বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। শিশুটির পিতা প্রথমে গোয়াইনঘাট থানায় একটি জিডি ও পরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান শিশুটিকে উদ্ধার করেন। জড়িতদের গ্রেফতার করেন। বর্তমান এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এবং ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসিসি পাঠানো হয়েছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo