শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:০৯ অপরাহ্ন

সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র

সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
ছবিতে উমেদার জুয়েল- নকল নবিশ মাহমুদ- উমেদার রেজাউল


বিশেষ প্রতিবেদক
মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইয়ে অসম্পাদিত দলিল সংযোগ ও দলিলের পাতা গায়েব করছে একটি চক্র। সম্প্রতি রেকর্ডরুমের একটি ভলিয়ম বই থেকে জমির আসল দলিলের পাতা গায়েবের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এই চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, চক্রটি কোনো দলিল ভলিয়ম বইয়ে সংযোগ বা গায়েব করার আগে সেই দলিলটি আর্জেন্ট জাবেদা নকল তোলে দেখে সঠিক কি না, এবং এই ভলিয়মে দলিল সংযোগ বা গায়েবের টাকাও নির্ধারণ করে।

সিলেট লাইভর অনুসন্ধানে এই চক্রের মূল হোতাদের পরিচয় মিলে। তারা হলেন নকল নবিশ মাহমুদ ও উমেদার জুয়েল। এর আগেও ২০১৮ সালে এরকম একটি অপকর্মের কারণে নকল নবিশ মাহমুদ বরখাস্ত হয়েছিলো। বরখাস্ত হবার পরও সে তার চক্র নিয়ে এসব অপর্কম অব্যাহত রেখেছে। মূলত তারাই রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইয়ে দলিল সংযোগ ও দলিলের পাতা গায়েব করার কারিগর।

ঘটনা গত ২৮ জুন সোমবারের। সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একটি দলিল নং- ১০২০/০১ -এর আর্জেন্ট জাবেদা নকল তোলা হয়। দলিল লেখক মুজিবুর রহমানের নামে সাবেক বরখাস্ত নকল নবিশ মাহমুদ এই দলিল তোলার জন্য আর্জেন্ট আবেদন করেন। দলিলটির স্টিমিট করেন উমেদার রেজাউল এবং নকল নবিশ তানিয়া ওই জাবেদা নকলটি লিখে দেন।

পরদিন ঘটে ভলিয়ম বই থেকে দলিল গায়েবের সেই ঘটনা। নকল নবিশ মাহমুদ অফিসের রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইটি জুয়েলের মাধ্যমে এনে দলিলের পাতা ছিড়ে নেয়। মাসুক নামক একজন লোক মাহমুদ ও জুয়েলকে দিয়ে এই কাজ ২ লাখ টাকার বিনিময়ে করান।

মাহমুদের এমন একটি ভয়েস রেকর্ড থেকে বিষয়টি স্পস্ট হয়। এর আগেও এরকম একাধিক কর্মকান্ড মাহমুদ ও জুয়েল টাকার বিনিময়ে করেছে বলে সেই ভয়েস রেকর্ডে স্বীকার করেন মাহমুদ। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একটি দলিল নং- ৪৭৮০/৬৫ দলিলের পাতা মাহমুদ জুয়েলের মাধ্যমে ভলিয়ম থেকে ছিড়ে গায়েব করে দেয়। অডিও রেকর্ডটি সিলেট লাইভর কাছে সংরক্ষিত।

১০২০/০১ নং দলিলটির স্টিমিট করেন উমেদার রেজাউল। তিনি জানান, নকল নবিশ মাহমুদ তাকে দিয়ে এই দলিলের স্টিমিট করান। এর পরে কি হয়েছে তিনি তা জানেন না। তবে একটি দলিলের পাতা গায়েব হয়েছে এই বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

এঘটনায় এই ভলিয়ম বইটি জব্দ রাখা হয়েছে বলে জানান রের্কড কিপার প্রণয় কান্তি ঘোষ। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিষয়টি জানতে উমেদার জুয়েলকে কল করলে তিনি জানান, প্রায় ১৩ দিন থেকে তিনি অসুস্থ, বাড়িতে আছেন। তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।

এসব বিষয় অস্বীকার করে নকল নবিশ মাহমুদ বলেন, আমি বরখাস্ত আমি কিভাবে এসব করবো। কথোপকথনের রেকর্ডের বিষয়েও তিনি অস্বীকার করেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি জানেন না জেলা রেজিস্টার মুন্সি মখলিছুর রহমান। তিনি বলেন এরকম ঘটনা ঘটলে অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বিষয়টির খোজঁ নিচ্ছেন এবং ঘটনা সত্য হলে এর বিহীত ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।

এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে যাদের নাম উঠে আসছে-তারা বিভিন্ন সময়ে দলিল জালিয়াতি ও রেকর্ড ধ্বংসের সাথে জড়িত। নতুন করে দলিল জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এই চক্রের সন্ধান মিলে। বিষয়টি সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা নজরদাড়িতে রেখেছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo