বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০১:৫২ অপরাহ্ন

সিলেটে ভয়াবহ বন্যা : আতঙ্কে নগরবাসী

সিলেটে ভয়াবহ বন্যা : আতঙ্কে নগরবাসী

sylhetlive24/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। মহানগরীসহ জেলার সবগুলো উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সময়ে সময়ে বাড়ছে বানবাসী মানুষের সংখ্যা। বিভিন্ন সড়ক ডুবে গিয়ে উপজেলা ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার এমনকি সরকারি দফতরগুলোতে উঠেছে পানি। সুরমা নদীর তীর ঢুকে বন্যাকবলিত হয়ে পড়া সিলেট নগরীর আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

সুরমার তীরঘেঁষা মাছিমপুর, শাহজালাল উপশহর, সোবহানীঘাট, ছড়ারপাড়, কালিঘাট, তালতলা, কাজিরবাজার, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, চালিবন্দর, কামালগড়, লালাদিঘিরপাড়, নাইওরপুল, ভার্থখলা, ঝালোপাড়া, চাদনীঘাট, কদমতলী, বরইকান্দি প্রভৃতি এলাকার বেশিরভাগ বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকেছে। বন্যার পানিতে শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ির জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়েছে।

জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে সবখানে। বুধবার নগরীর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনচিত্র দেখা গেছে।

সর্বশেষ ২০০৪ সালে নগরীর অনেক এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। এরপর প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও এবারের মতো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড বুধবার সন্ধ্যায় জানায়, সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভাসহ সিলেটের সবগুলো নদ-নদীর পানি বাড়ছে। অনেক জায়গায় পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। জেলার বাকি উপজেলাগুলোরও নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সুরমা-কুশিয়ারা, লোভা, সারি ও দলাই নদীর পানি ৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার প্রতিবেদন অনুযায়ী কানাইঘাটে সুরমার পানি ১৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটে সুরমার পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উৎসমুখ আমলশীদে কুশিয়ার নদীর পানি ১৪৮ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ৫১ সেন্টিমিটার উপরে, লোভা ছড়ায় পানির গতি প্রবাহ ১৪.৪৭ সেন্টিমিটারে প্রবাহমান রয়েছে।

শাহজালাল মেন্দিবাগ এলাকার রাজু আহমদ বলেন, পরিবার নিয়ে তিনি টিনশেড একটি বাসায় থাকতেন। সোমবার বাসার সামনে পানি চলে আসে। আর মঙ্গলবার দুপুরে বাসার ভেতর হাটু পানি হয়ে যায়। ফলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিকেলে বাসায় গিয়ে দেখেন কোমর পানি। আসবাবপত্র সব ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই কিছুই সরিয়ে আনতে পারেননি।

ছড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, সোমবার রাত থেকেই পানিবন্দী অবস্থায় তারা। মঙ্গলবার পানি আরও বেড়ে যাওয়ার আতঙ্কে বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে, নগরের কালিঘাটে অনেক দোকানের চালসহ বিভিন্ন মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে ট্রাক দিয়ে মালামাল সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, বন্যা কবলিতদের জন্য ১৯৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে নগরীর মানুষের জন্য ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো – মিরাবাজারস্থ কিশোরী মোহন বালক উচ্চ বিদ্যালয়, চালিবন্দর রামকৃষ্ণ উচ্চবিদ্যালয় ও চালিবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছিমপুরস্থ আবদুল হামিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুরহান উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শাহজালাল উপশহরস্থ তেররতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাজাঙ্গালস্থ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাজিরবাজার স্কুল, মনিপুরি রাজবাড়ি আশ্রয়কেন্দ্র ও মাছুদিঘি আশ্রয়কেন্দ্র, ঘাসিটুলা স্কুল, ইউনিসেফ স্কুল, কানিশাইল স্কুল, জালালাবাদ স্কুল, বেতের বাজার কাউন্সিলর কার্যালয়ের ৪তলা ভবন এবং হবিনন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

তিনি বলেন, সবগুলো আশ্রয়কেন্দ্রে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলাগুলোতে ইউএনওদের সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশনা দেওয়া আছে। বন্যা কবলিতদের জন্য আরেক দফায় ১০০ মেট্রিকটন চাল ও ৩০০০ প্যাকেট শুকানো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১২৯ মেট্রিকটন চাল ও ১০০০ শুকানো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার রাতেও সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

আর আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছেন, ২৩ জুন পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তবে বৃষ্টির পরিমান কিছুটা কমতে পারে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo