বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০১:০৫ অপরাহ্ন

সিলেটে ভয়ঙ্কর প্রতারক সাজু : চৌকিদার থেকে রাতারাতি শিল্পপতি

সিলেটে ভয়ঙ্কর প্রতারক সাজু : চৌকিদার থেকে রাতারাতি শিল্পপতি

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার মাইজকান্দির মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে নগরীর সোবাহানীঘাটের মাদ্রাসা গলির ৪০ নাম্বার বাসার পাথর ব্যবসায়ী সাজু আহমদ। সাধারণ মানুষদের হয়রানী করাই তার নেশা। বিত্তবান হওয়ার চেষ্টায় এথন এই নেশা পেশায় পরিবর্তণ হয়েছে। নারীবাজ, প্রতারণা, হুমকি, একাধিক বিয়ে, মামলা এবং মিথ্যে অপবাদ দিয়ে হয়রানি, নিজেকে কখনও বড় ব্যবসায়ী, কখনও সাংবাদিক পরিচয়ে দিয়ে করেন প্রতারণা। এরকম অসংখ্য অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

সিলেটের কয়েকটি থানায় প্রতারণা মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জকিগঞ্জ থেকে সাজু সিলেটে এসে প্রথমে একটি বাসার চৌকিদার হিসেবে যোগদান করে। পরে চতুর সাজু বিভিন্ন মানুষদের সাথে প্রতারণা করে কমিশন ভিত্তিতে পাথর ব্যবসা শুরু করে। রাতারাতি রনে যায় শিল্পপতি। শুধু তাই নয়, সাজু আরও বিত্তবান হওয়ার জন্য নিজের ২য় স্ত্রী মোহনা (ছদ্মনাম) কে দিয়ে নগরীর একটি বাসায় রেখে দেহ ব্যবসা করানোর পরিকল্পনা করে। মোহনা তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন এবং তার দেহে মরিচের গুড়ো লাগায় সাজু! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও মোহনাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে পোস্ট করেন। মোহনা সাজুর নির্যাতনে আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করে। এদিকে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাজুর অপকর্মের অডিও ফাঁস হওয়ায় তোলপাড় চলচে নগরজুড়ে।

এরআগে- তিনি সিলেটের এক বড় শিল্পপতি ছিলেন। তার সাবেক এক স্ত্রী মোহনা (ছদ্মনাম) সে তাকেসহ দেশ বিদেশের অনেক যুবককে নিঃস্ব করেছে। সেই সাবেক স্ত্রী এবার তাকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছে! এমন অভিযোগে তিনি এসএমপি’র শাহপরাণ (র.) থানায় একটি জিডি এন্ট্রি করেছেন। তিনি সেই জিডিসহ একগাদা কাগজ নিয়ে সিলেটের বেশ কয়েকটি প্রিন্ট এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল’র অফিসে মোহনার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য ঘুরাঘুরি করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- নির্যাতিত তরুণী মোহনা’র (ছদ্মনাম) গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। বর্তমানে নগরীর একটি বাসায় সাবলেট থাকেন। ছোটবেলায় মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়। মোহনার মা রিনা বেগম (ছদ্বনাম)। ২০২০ সালে যখন ১৬ বছর তখন মায়ের সাথে নগরীর সোবাহানীঘাট এলাকার একটি বাসায় থাকতেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিলোনা। মোহনা নগরীর একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলো। ছাত্রী হওয়ায় সে ওই এলাকায় দিয়ে যাতায়াতের সময় চোখে পরে বিবাহিত সাজু আহমদের। নারীলোভী চতুর সাজু মোহনার মা রিনা বেগমকে অর্থিক সুযোগ দিয়ে মোহনাকে বিয়ে করার চেষ্ঠা করে। এতে মোহনার মা রাজি থাকলেও মোহনা রাজি হয়নি। পরে মোহনার মা রিনা বেগমের সুযোগে সাজু মোহনার বাসায় এক সকালে ধর্ষণ করে। লোকলজ্জার কারণে মোহনা আইনের আশ্রয় না নিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। মোহনার মাও এই বিষয়টি তেমন পাত্তা দেয়নি! মা উল্টো টাকার জন্য সাজুকে প্রশ্রয় দেন। নিরুপায় হয়ে এক পর্যায়ে মায়ের এসকল অপকর্ম দেখে ২০২০ সালে ১৮ জুলাই অপ্রাপ্ত বয়সে মোহনা বিয়ে করে বিবাহিত সাজু আহমদকে। বিয়ের পর সাজু মোহনাকে নিয়ে নগরীর লোহারপাড়ার এলাকার একটি বাসায় তোলে। সেই বাড়িতে মোহনা একা থাকতো। প্রতিদিন একবার সাজু সেখানে যেতো। তবে সাজু রাতে তার সোবাহানীঘাটের বাড়িতে রাতে থাকতো। সেই সময়ে সাজুর ১ম স্ত্রী বিষয়টি জানতেন না। নারীলোভী সাজু মোহনাকে প্রস্তাব দেয় সে এই বাসায় তাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর। তাতে মোহনা সাড়া না দেয়ায় শুরু হয় তার উপর শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন। মোহনার তার দেহে মরিচের গুড়ো লাগায় সাজু! এ ঘটনায় প্রতিবেশারা মোহনাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে করেন। সাজু বিবাহিত জেনেও নিজের ইজ্জতের জন্য সবকিছু মেনে মোহনা সাজুকে বিয়ে করলেও সংসার করা হয়নি এক বছর।

নির্যাতনের এঘটনায় মামলা হয় সাজুর বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি আপোষ হয়। সাজুও এসব আর করবেনা মর্মে লিখিত দেয়। পরে ২০২০ সালে ২৭ জুলাই স্থানীয় এক কাউন্সিলরের অফিসে সাজু মাহিমা আক্তার মুক্তার কাবিনের মোহরানা এক লাখ টাকা ও জরিমানা বাবদ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় তাদের। এরপর মোহনা নিজেকে আলাদা করে নেয় তার পরিবার থেকে। নগরীর একটি বাসায় সাবলেট থাকে মোহনা। শারীরিক নির্যাতনের পর এখন সাজু তাকে করছে মানসিক নির্যাতন। টাকা বিনিময়ে ভুঁইফোড় কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে মোহনার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাজু। এখন এই বিষয় নিয়ে সে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

নারীলোভী সাজুর ১ম এবং ২য় স্ত্রী ছাড়াও অন্য মেয়েদের সাথে কিছু অশ্লিল ছবি অডিও রেকর্ড সিলেট লাইভর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তার প্রতারণার শিকার অনেকেই সিলেট লাইভ’র এর সাথে যোগাযোগ করছেন। পর্যায়ক্রমে তাও প্রকাশ হবে।

এ বিষয়ে সাজু আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুউত্তর না দিয়ে উল্টো প্রতিবেদককে টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন।

নির্যাতিত তরুণী মোহনা সিলেট লাইভকে বলেন, সাজু আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। বিয়ের পর সাজু আমাকে নিয়ে নগরীর লোহারপাড়ার এলাকার একটি বাসায় তোলে। সেই বাড়িতে সাজু আমাকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করানোর চেষ্টা করে। তাতে আমি সাড়া না দেয়ায় শুরু হয় শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন। আমার সাথে ওর ডিভোর্স হয়েছে। এরপরেও সে আমাকে জ্বালাতন করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য করছে। আমার বিরুদ্ধে টাকা বিনিময়ে ভুঁইফোড় কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই ভুঁইফোড় সাংবাদিকরা আমার কোনো বক্তব্যও নেননি। যা ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনী আশ্রয় নিয়েছি।

 

আরও পড়ুন : সিলেটে ভয়ঙ্কর প্রতারক সাজু






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo