বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০১:০৫ অপরাহ্ন

সিলেটে প্রবাসীর সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভাগ্নের বিরুদ্ধে

সিলেটে প্রবাসীর সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ভাগ্নের বিরুদ্ধে

sylhetlive24.com
সৈয়দ মনজুরে খোদা ওরফে সুজন।-ফাইল ছবি।


নিজস্ব প্রতিবেদক

লন্ডন প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরী (৬০)। দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে স্বপরিবারে প্রবাসে বসবাস করছেন। তিনি নগরীর কুমারপাড়াস্থ করিমগঞ্জ হাউজ মৃত আব্দুল আজিজ চৌধুরী ছেলে। সিলেট শহরসহ দেশে তাদের বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। এই বিশাল সম্পত্তির মধ্যে রিসোর্ট ভাড়া, বাসা ভাড়া ও দোকান ভাড়া অন্যতম তার আয়ের উৎস। তাছাড়া প্রবাসেও আছে তার রেস্টুরেন্ট ব্যবসা। সম্প্রতি তিনি দেশে এসে এসএমপি’র পুলিশ কমিশনার বরাবর তার ভাগ্নের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত ভাগ্নে মৌলবীবাজারের দরকাপন এলাকার মৃত প্রফেসর আব্দুর রহিমের ছেলে সৈয়দ মনজুরে খোদা (৪২) ওরফে সুজন। বর্তমানে সে নগরীর শাহাজালাল উপশহরের রাবেয়া ম্যানশনে শশুর বাড়িতে বসবাস করছেন।

সূত্র জানায়, প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরী তার দেশের সম্পত্তি দেখাশুনা এবং ভাড়া উত্তোলনের জন্য নিজের বেকার ভাগ্নে সুজনকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তিনি জানতেন না এই সুজন লোভে পড়ে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে! প্রথম দিকে সুজন তার দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে পালন করে এবং প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরীর প্রতি তার বিশ্বাস জন্মায়। তিনি সুজন ও তার স্ত্রীকে নগরীর উপশহরে একটি বাসা ভাড়া করে সুজনের কাছে রক্ষিত তার সম্পত্তির টাকা থেকে ফার্নিচার ক্রয় করে বসবাস করার জন্য বলেন। এবং তিনি দেশে আসবেন একটি কার ক্রয় করার জন্য বলেন। সুজন একটি সাদা রংয়ের কার ক্রয় করে। এই কারের টাকাও প্রবাসী মামার বাসাভাড়া থেকে উত্তোলিত সুজনের একাউন্টে রক্ষিত টাকা থেকে কেনা হয়।

এদিকে, চতুর সুজন প্রবাসীর দেশের সম্পত্তি থেকে উত্তোলিত টাকা নিজের ব্যাংক একাউন্টে রাখতো এবং তার মামাকে হিসেব দিতো। যখন প্রবাসীর টাকার প্রয়োজন হত তখন তিনি সুজনের কাছ থেকে রক্ষিত টাকাগুলো তার ব্যাংক একাউন্টে নিতেন। কিন্তু তিনি জানতেন না, চতুর সুজন প্রবাসীর সেই টাকা দিয়ে (বড় বড় বিল্ডিংয়ে লিফ্ট সংযোগ) নিজের একটি ব্যবসা শুরু করে।

সুজন ছিলো নি:সন্তান। কয়েক বছর পর সুজন তার মামাকে জানায়, স্ত্রীকে নিয়ে হজ পালন করবে। বিষয়টি শুনে খুশি হয়ে প্রবাসী মামা আব্দুল মুহিত চৌধুরীর ব্যাংকে রক্ষিত তার টাকা থেকে হজের সম্পূর্ন খরচ বহন করেন। এছাড়াও শ্রীমঙ্গলে তার সন্তান জন্ম নেয়ার পর প্রবাসী মামা হাসপাতালের সব খরচ বহন করেন।

২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারী সুজন তার মামার ১০ লক্ষ টাকা করে ২টি সঞ্চয়পত্র কিনা বাবদ নেয় এবং মৌলভীবাজার প্রধান ডাকঘরে রাখে। তবে সেই সঞ্চয়পত্র সুজন নিজের নামে করে রাখে। চলতি বছরে প্রবাসী মামা দেশে আসলে সুজনের স্ত্রী তার শাশুড়ি (প্রবাসীর বড়বোন) মোছা. খালেদা নেছার চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিন্দনীয় কথাবার্তা বলে। বিষয়টি প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরী বিষয়টিখারাপ লাগায় তিনি সুজন ও তার স্ত্রীকে স্বপরিবারে উপশহরের ভাড়া বাসা থেকে চলে যেতে বলেন। পরে সুজন তার শশুর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তিতে প্রবাসীর ২টি সঞ্চয়পত্র ভেঙে টাকা এনে দেয়ার কথা বললে সুজন তাকে ১০ লক্ষ টাকা এনে দেয়। অপর ১০ লক্ষ টাকা সে তার মামাকে অস্বীকার করে। প্রবাসী মামা তার সঞ্চয়ের টাকার জন্য সুজনকে কল করলে সে টাকা দিতে টাল বাহানা শুরু করে। এবং তার মামাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসএ্যাপে ব্লক মেরে দেয়। তাই নিরুপায় হয়ে প্রবাসী মামা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।

তবে প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরীর এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন সৈয়দ মনজুরে খোদা ওরফে সুজন। সুজন স্বীকার করেন তিনি তার মামার বাসা দেখাশুনা করেছেন। তবে তিনি সব টাকা পরিশোধ করেছেন। এছাড়াও তিনি তার মামাার বিরুদ্ধে আজে-বাজে মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার ২ মামা তার মাসহ ৬ খালার সম্পত্তির মধ্যে ফরাজ রয়েছে। তারা এসব দখল করে রেখেছেন।

প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরী জানান, সৈয়দ মনজুরে খোদা ওরফে সুজন আমার ভাগ্নে। আমি তাকে বিশ্বাস করে আমার সম্পত্তি দেখাশুনার জন্য রেখেছিলাম। আমি তাকে খুব বেশি বিশ্বাস করতাম তইতো আমার সম্পদের টাকা তার ব্যাংকের একাউন্টে সংরক্ষিত থাকতো। প্রয়োজনে আমি সেই টাকা নিতাম। আবার সে তার ব্যাংকের রাখা টাকা থেকে আমার বাসার ফার্নিচার, গাড়ি ক্রয় করেছে। তাছাড়া আমার সঞ্চয়ের ২০ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে ফেরত দেয়। বাকি ১০ লক্ষ টাকা সে এখন অস্বীকার করছে।

প্রবাসী আব্দুল মুহিত চৌধুরী তার বোনদের ফরাজ সর্ম্পকে জানান, তারা দীর্ঘদিন আগে রেজিস্ট্রি করে আমরা দুই ভাইকে দিয়েছেন। এছাড়াও এবিষয়ে তারা একটি মামলা করেছিলো। এই মামলাও আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সুজন ছিলো বেকার। সিলেটে আমাদের বিশাল সম্পত্তি রয়েছে। সুজন কোন জায়গার জমিদার? সে আমাকে ফার্নিচার, গাড়ি ক্রয় করে দিবে। এতো টাকা ওর ব্যাংক একাউন্টে আসলো কি করে? আমার তাকে বিশ্বাস করাটাই হল আমার কাল।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo