মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:২২ অপরাহ্ন

সিলেটে দুই মাসের এক এতিম শিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা

সিলেটে দুই মাসের এক এতিম শিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটে মাত্র ২ মাস ১১ দিন বয়সী এক এতিম শিশুকে আছাড় এবং বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সিলেটের ছোটমনি নিবাসে। নিহত এতিম শিশুটির নাম নাবিল আহমদ। গত ২২ জুলাই দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই রাতে শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আয়ার হাতেই নির্মমভাবে খুন হয় অবুঝ শিশুটি। হত্যার পর বিষয়টি গোপন রাখে ছোটমনি নিবাসের দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

ঘটনার ২০ দিন পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘাতক আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে আটক করেছে। তিনি মফিজুল ইসলাম সরকারের মেয়ে। পুলিশ জানায়, এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার সাথে জড়িত সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই দিবাগত রাত ১১টার দিকে নগরীর বাগবাড়িস্থ ছোটমনি নিবাসে মাত্র ২ মাস ১১ দিন বয়সী অবুঝ শিশু নাবিল আহমদ কান্নাকাটি শুরু করলে ক্ষিপ্ত হন সেখানকার দায়িত্বে থাকা আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকা। একপর্যায়ে তিনি শিশু নাবিলকে মাথার উপর তুলে সজোরে বিছানায় আছাড় দেন। তারপরও থামেনি ভয়ংকর সুলতানার নির্যাতন। শিশু নাবিলের মুখের উপরে বালিশ চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন পাষণ্ড আয়া সুলতানা। চিরদিনের জন্য থেমে যায় নাবিলের কান্না। এরপর প্রমাণাদি লোপাটের চেষ্টা করেন সুলতানাসহ ছোটমনি নিবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে ২৩ জুলাই কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (নম্বর-৪৫) দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্তের পর ইসলামিক রীতি অনুযায়ী শিশুটির দাফন সম্পন্ন হয়।

অপরদিকে- কোতোয়ালি থানার এসআই মাহবুব অপমৃত্যু মামলার তদন্তভার পান। গত ১০ আগস্ট ছোটমনি নিবাসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার পর ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মুখ খোলেননি ছোটমনি নিবাসের দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন কর্মকতা, আয়া কিংবা অন্য কেউ।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানা পরিদর্শনে আসেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উত্তর বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) আজবাহার আলী শেখ। এসময় থানার ওসি এস এম আবু ফরহাদ ও তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মাহবুব মামলার বিষয়টি তাকে জানান এবং জড়িত আয়াকে গ্রেফতারের অনুমতি চান। তাৎক্ষণিকভাবে রাত ১১টায় থানার পুলিশ ফোর্স নিয়ে বাগবাড়ির ছোটমনি নিবাসে ছুটে যান ডিসি আজবাহার আলী শেখ।

প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরায় শিশু নাবিল খুনের পুরো ঘটনাটি রেকর্ড রয়েছিলো। ক্যামেরায় ধারণ হয় সুলতানা কিভাবে শিশুটিকে আছাড় মেরে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেন, সেই দৃশ্য। সিসি ফুটেজ দেখে আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে তাৎক্ষণিক আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট যে বা যারা রয়েছেন, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ জানান, আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে জানতে পারি এটা অপমৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড। ছোটমনি নিবাস একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, এজন্য উর্ধতন মহলের অনুমতি নিয়ে আমরা বৃহস্পতিবার রাতে ছোটমনি নিবাসে অভিযান পরিচালনা করে ঘাতক আয়াকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত এবং যারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo