সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

সিলেটে দিন দিন বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যা, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

সিলেটে দিন দিন বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যা, উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেটে চলমান লকডাউনে দিন দিন বাড়ছে করোনায় মৃতের সংখ্যা। প্রতিদিনই ছাড়িয়ে যাচ্ছে করোনা শনাক্তের রেকর্ড। বেড়েছে প্রাণহানির সংখ্যাও। প্রতিদিন শনাক্ত ও মৃত্যু সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে যেকোন মূল্যে লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আহমদ পারভেজ জাবীন বলেন, মহামারি বিরাজমান জেনেও আমরা বিজ্ঞান সম্মত নির্দেশনা মানার মানসিকতা গড়ে তুলতে পারিনি। প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করছি। ফলে ক্রমাগত কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। যেকোন মূল্যে জনগণকে সরকারের ১৮ দফা মানাতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালানো দরকার। যাতে সকল মানুষ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। বাধ্যতামুলক মাস্ক পরেন। নমুনা সংগ্রহ ও টেস্টের পরিমাণ বৃদ্ধি করে পজিটিভ রোগীর হোম আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। এটি করা গেলে একটা পর্যায়ে কোভিড নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। না হয় এর জন্য চরম মাশুল দিতে হবে।

সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই কিন্তু কোভিড শনাক্ত বেড়েছে। আমরা যত কথাই বলি কোভিড নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। ঘরের বাইরে সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি না মানার মাশুল এখন অনেকেই দিচ্ছেন। সকলকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানা ছাড়া কোন উপায় নেই।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরো ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ৬ জন, সিলেটে ২ জন ও হবিগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের শনিবারের বুলেটিনে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, এ নিয়ে এ বিভাগে ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ বিভাগে আরো ৩৪০ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। ৯৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় তাদের পজিটিভ আসে। শনাক্তের হার ৩৫.৬৮ ভাগ। এ নিয়ে এ বিভাগে ৩৯হাজার ৪৫৬ জনের করোন শনাক্ত হয়। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫ জন। ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ২১৮ জন। সবমিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৩০ হাজার ৪৩৮ জন।

লকডাউনেও আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অনেক রোগীকে স্বজনরা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করার জন্যে নিয়ে আসলেও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে ধর্না দিয়েও আইসিইউ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক রোগী পাচ্ছেননা অক্সিজেন সাপোর্টও। ফলে অসহায় স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়ে আইসিইউ’র আশায় সময় পার করছেন।

এদিকে, কেবল শহর এলাকা নয়- বর্তমানে গ্রামাঞ্চলেও হানা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। গ্রামের বাজারে কোন নিয়ন্ত্রণ বা প্রশাসন কর্তৃক তেমন নজরদারি না থাকায় গ্রামে-গ্রামেও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনা ভাইরাস।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo