বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ১২:২৬ অপরাহ্ন

সিলেটে দলিল গায়েবে মাহমুদ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য, জাল দলিলে নামজারি

সিলেটে দলিল গায়েবে মাহমুদ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য, জাল দলিলে নামজারি

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
ছবিতে নকল নবিশ মাহমুদ=উমেদার জুয়েল


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডরুমে রক্ষিত ভলিয়ম বইয়ে অসম্পাদিত দলিল সংযোগ ও দলিলের পাতা গায়েবের ঘটনার অনুুসন্ধানে মাহমুদ চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। গত ২৮ জুন সোমবার সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভলিয়ম বই থেকে দলিল নং- ১০২০/০১ টি ছেড়ার পর চক্রটি ক্ষান্ত হয়নি। তারা জাল দলিলে সিলেট সদর সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে এই দলিল ১০২০/০১ইং বলে হাজিরাই মৌজার ১০ একর জমি নামজারি করেছে।

এরআগে উমেদার জুয়েলকে দিয়ে দলিলের পাতা ছিড়ে এনে জুয়েলের লোক রাজন আহমদের মারফতে লামাবাজার পয়েন্টে মাহমুদের নিকট বালাম বইয়ের পাতা দেয় রাজন। জনৈক সঞ্জয় নামক ব্যক্তি মাহমুদের সাথে এই দলিল ছিড়ে নেয়ার কন্ট্রাক করে।

সূত্র জানায়,

হাজিরাই মৌজায় ১০ একর জমি নামজারি করে সাবেক বরখাস্তকৃত নকলনবিশ মাহমুদ ১০ লাখ টাকার চুক্তি করেন। ১০২০/০১ইং দলিলের পাতা নিয়ে মাহমুদ ১০ লাখ টাকার কন্ট্রাকে মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আনে সঞ্জয়ের কাছ থেকে।

সূত্র আরো জানায়, এই মাহমুদ চক্র সিলেটের আমধরপুর মৌজার বেশ কয়েকটি লিজ নামা দলিলের পাতা উমেদার জুয়েলের মাধ্যমে এনে দলিলের মালিকের নাম তপশিল বদল করে তার নিকট আশা ব্যক্তির নামে দলিলের পাতায় থাকা তপশিলের দাগ ঘষামাজা করে তার মনোনিত ব্যক্তির নাম লিখে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নকল সরবরাহ করে । প্রতিটি দলিল ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে সেই সৃষ্টি করে মাহমুদ। ১৯৭৫ ইং সনের একটি দলিল ২৯৯০১ লিজ নামা দলিল সৃষ্টি করে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে নকল উত্তলোন করে মাহমুদ। সেই সময়ে এল.এ শাখায় এই দলিলের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন করেন রেকর্ডরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেকর্ড কিডার প্রনয় কান্তি ঘোষ। এই দলিলটি ১৯৭৫/৭৯ইং সনের ২৪০ নং বালাম বইতে আসল সাফকাবলা দলিলটি এখনও লিখা রয়েছে।

টাকার বিনিময়ে মাহমুদ সাফকাবলা দলিলের বিপরিতে লিজ নামা দলিল সৃষ্টি করে তার মনোনিত ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়। সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে রেকর্ড কিপারকে ম্যানেজ করে লিজ দলিল ও দলিলের সঠিকতা রিপোর্ট নেয় মাহমুদ। যা রেকর্ডরুমের রিপোর্টের নথিতে ১৯৭৫ ইং সনের ২৯৯০১ লিজ নামা দলিলের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রতিবেদন নথিতে সংরক্ষিত।

 

জাবেদা নকল

দলিল নং-১০২০/০১ইং গত ২৮ জুন সোমবার সিলেট সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে আর্জেন্ট জাবেদা নকল তোলা হয়। দলিল লেখক মুজিবুর রহমানের নামে সাবেক বরখাস্ত নকল নবিশ মাহমুদ এই দলিল তোলার জন্য আর্জেন্ট আবেদন করেন। দলিলটির স্টিমিট করেন উমেদার রেজাউল এবং নকল নবিশ তানিয়া ওই জাবেদা নকলটি লিখে দেন। পরদিন সে রেকর্ড কিপারকে ম্যানেজ করে ভলিয়ম বই থেকে দলিল গায়েবে করে।

জানা গেছে, নকল নবিশ মাহমুদের এর আগেও এরকম একাধিক কর্মকান্ড মাহমুদ ও জুয়েল টাকার বিনিময়ে করেছে। একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে একটি দলিল নং- ৪৭৮০/৬৫ দলিলের পাতা মাহমুদ জুয়েলের মাধ্যমে ভলিয়ম থেকে ছিড়ে গায়েব করে দেয়। অডিও রেকর্ডটি সিলেট লাইভ‘র কাছে সংরক্ষিত।

এই ঘটনার সাথে জড়িত বলে যাদের নাম উঠে আসছে-তারা বিভিন্ন সময়ে দলিল জালিয়াতি ও রেকর্ড ধ্বংসের সাথে জড়িত। নতুন করে দলিল জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর এই চক্রের সন্ধান মিলে। বিষয়টি সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা নজরদাড়িতে রেখেছে।

আড়ও পড়ুন-
সিলেট সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রের্কড কিপার প্রণয়কে ম্যানেজ করার চেষ্টা মাহমুদ চক্রের
সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র
সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, মামলা হচ্ছে মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo