মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:২০ অপরাহ্ন

সিলেটে চোরাই নেটওয়ার্কে পুলিশের ধাক্কা, তোলপাড়

সিলেটে চোরাই নেটওয়ার্কে পুলিশের ধাক্কা, তোলপাড়

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


ওয়েছ খছরু

জগন্নাথপুরের কাঠালখাইড়ে বাড়ি সাজ্জাদের। বসবাস করে ওসমানীনগরের ইলাশপুরে। আর কামরুলের বাড়ি বিশ্বনাথের গোবিন্দপুর গ্রামে। এর মধ্যে সাজ্জাদ ওসমানীনগরে ও কামরুল বিশ্বনাথে চোরাই পণ্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাদের নেটওয়ার্কের মূল হোতা জৈন্তাপুরের মানকপাড়া গ্রামের বিলাল উদ্দিন।

ভারত থেকে আনা সব ধরনের পণ্য তার হাত ধরেই ছড়িয়ে যায় দেশের ভেতরে। বিলালের ভাই হেলাল, স্বজন আব্দুল হাইসহ আরও কয়েকজন এই নেটওয়ার্কের সদস্য।

সম্প্রতি একটি চোরাই পণ্যের চালান আটকের ঘটনায় নিরীহ চালককে অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার ঘটনায় এই চোরাই নেটওয়ার্কের সদস্যদের কর্মকাণ্ড এসেছে আলোচনায়। খবর মানবজমিন।

এ নিয়ে পুলিশের অভিযান ও চোরাই পণ্য আটকের বিষয়টি সীমান্তে চোরাচালানের অপরাধ জগতে হচ্ছে তোলপাড়।

মাস খানেক আগের ঘটনা। চোরাই চক্রের সদস্য সাজ্জাদের গাড়ি ড্রাইভার ছিল জৈন্তাপুরের বাউরভাগ উত্তর গ্রামের বাসিন্দা নাঈম উদ্দিন। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের একটি দল চণ্ডিপুল এলাকা থেকে চোরাইপথে আনা ভারতের নাসির বিড়ির একটি চালানসহ নাঈমকে আটক করে। এরপর গাড়ি এবং পণ্যের মালিকের সূত্র ধরে গাড়ির মালিক সাজ্জাদ ও বিড়ির মালিক কামরুল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। বিষয়টি জানার পর কামরুল ও সাজ্জাদ চণ্ডিপুলে এসে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশি হেফাজত থেকে গাড়িসহ নাঈম ও চোরাইপণ্য নিয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য চালক নাঈমকে দোষারোপ করে চোরাই চক্রের সদস্যরা। পুলিশের কাছে তাদের নাম বলে দেয়ায় সাজ্জাদ ও কামরুল নাঈমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। ওইদিন তারা নাঈমকে মারধরও করে। পরবর্তীতে নাঈম ওদের সঙ্গে অবৈধ কাজ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এবং তাদের গাড়িও আর চালাবে না বলেও জানায়। এতে ক্ষুব্ধ হয় চোরাই চক্রের সদস্য কামরুল ও সাজ্জাদ।

এদিকে গত ২৩শে মার্চ সাজ্জাদ গাড়ি ওসমানীনগরে যাওয়ার কথা বললে নাঈম ওইদিন স্থানীয় আবদুর রহমানসহ সাজ্জাদের বাড়িতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিল চোরাই চক্রের সদস্য ও বিশ্বনাথের এজেন্ট কামরুলও। উপস্থিত ছিল জৈন্তাপুরের চারিকাটা ইউপি এলাকার কুখ্যাত চোরাকারবারি বিলাল হাজী, হেলাল, আব্দুল হাইসহ আসামিরা। গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে কামরুল ও সাজ্জাদ একটি ঘরে সারাদিন বন্দি করে রাখে নাঈমকে। পরে বিকালে তারা চোখ বেঁধে একাধিক স্থানে নিয়ে যায়।

ঘটনার দিনই সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাজ্জাদ নাঈমের পিতা লুৎফুর রহমানকে জৈন্তাপুর থেকে ওসমানীনগরে ডেকে নিয়ে আসে। চোরাইপণ্য গাড়ি চালাতে নাঈম ও তার পিতাকে চাপ দেয়। এতে রাজি হয়নি নাঈম। এরপর ওই রাতে নাঈমকে হাত-পা বেঁধে নিয়ে যায় আসামিরা। ওইখানে তারা দু’টি সাদা স্ট্যাম্পে নাঈম ও তার পিতা লুৎফুর রহমানের জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। একই সঙ্গে তারা আরও কয়েকটি খাতায় দস্তখত নেয়। এক পর্যায়ে জৈন্তাপুরের চোরাকারবারি বিলাল হাজীর মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। বিলাল হাজী নির্যাতনে জড়িত থেকে পরবর্তীতে তিনিই সালিশের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এ ঘটনার পর চোরাই চক্রের সদস্যরা নাঈমের কাছে টাকা দাবি ও চোরাইপণ্যের গাড়ি চালাতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল।

এ ঘটনায় প্রথমে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের নানা সালিশের কাছে প্রতিকার চেয়ে বিচার না পেয়ে গত ১৭ই এপ্রিল সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন নাঈম। ওই দিনই শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের মামলা রেকর্ড করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ওসমানীনগর থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে চোরাই নেটওয়ার্কের সদস্য বিশ্বনাথের কালিগঞ্জের গোবিন্দপুরের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে চোরাকারবারি কামরুল ইসলাম বলছে ভিন্ন কথা।

তার মতে, তাদের চোরাইপণ্য পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়েছিল নাঈম। এবং নাঈমের সঙ্গে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের কারো না কারো সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এজন্য যে সাড়ে ৪ লাখ টাকা ঘুষ হিসাবে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশকে দেয়া হয়েছে সেই টাকা ফেরত পেতে তারা নাঈমকে চাপ দিচ্ছেন।

পরে ডেকে এনে লামাকাজীর এক মেম্বারের কাছে নিয়ে গিয়ে স্ট্যাম্পে দস্তখত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। কামরুল জানান, নাঈম টাকা ফেরত দিয়ে দিলে ঝামেলা শেষ। নতুবা বিষয়টি জৈন্তাপুরের বিলাল হাজীসহ যারা সম্পৃক্ত রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শেষ করতে তিনি নাঈমকে জানিয়েছিলেন। তবে চোরাই নেটওয়ার্কের মূল হোতা জৈন্তাপুরের মানিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিলাল উদ্দিন বিলাল হাজী মানবজমিনের কাছে জানিয়েছেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ওসমানীনগরের সাজ্জাদ, বিশ্বনাথের কামরুল নামের কাউকেও তিনি চিনেন না। নিজ এলাকা জৈন্তাপুরের নাঈম কিংবা তার পিতা লুৎফুরকে চিনেন না বলেও জানান। ফলে এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না দাবি করেন বিলাল হাজী।

মামলার বাদী নাঈম আহমদ জানিয়েছেন, চোরাইপণ্য নিয়ে ওই চক্রের সদস্যদের গাড়ি সে চালাবে না বলে জানিয়ে দেয়ার পর তার সঙ্গে একের পর এক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এখনো ওদের কাছে তাদের স্বাক্ষর করা দুটি স্ট্যাম্পসহ মোটরসাইকেলের কাগজপত্র রয়েছে।

সেগুলো দিয়ে তারা পাল্টা মামলা করার হুমকি দিচ্ছে। তার নিরাপত্তা ও চোরাই কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে তিনি ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথ থানা পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo