সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

সিলেটে চাঁদাবাজদের যন্ত্রনায় ঘর নির্মাণ করেতে পারছেন না এক প্রবাসী

সিলেটে চাঁদাবাজদের যন্ত্রনায় ঘর নির্মাণ করেতে পারছেন না এক প্রবাসী

sylhetlive24.com


বিশেষ প্রতিবেদক
সিলেটে নিজের ভূমিতে ভবনের কাজ ধরে মধ্যখানে চাঁদাবাজদের যন্ত্রনায় থেমে গেছে এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর ঘর নির্মাণ কাজ। চাঁদা দাবি করে এই ঘরের কাজ থামিয়ে দিয়েছে একটি ভূমিখেকোচক্র। এমন পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছেন ওই প্রবাসী। এ নিয়ে পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ ও উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. সুহেল রেজার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রবাসী মো. আলীর ছেলে ফখরুজ্জামানের ফুফাতো ভাই জাবেদ মিয়া।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, শিশু বয়সে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন মো. ফখরুজ্জামান। তিনি প্রায়ই স্বজন-প্রিয়জন ও দেশের টানে বাড়ি আসেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মোগলাবাজার থানা এলাকার তিরাশীগাঁও মৌজায় ১০৬৪, ১০৬৩, ১০৬২, ১০৬১ দাগের ৩১ শতক জায়গা খরিদ করে মালিক হন তিনি। যার খতিয়ান নম্বর এস. এ : ৭৫ এবং জে. এল. নম্বর : ১৭৯। জায়গাটি ক্রয় করার পর থেকে তিনি ভোগদখল করে আসছেন। তিনি যুক্তরাজ্য থাকার কারণে এই জায়গার দেখাশুনার দায়িত্ব দেন ফুফাতো ভাই জাবেদ মিয়াকে।

সম্প্রতি ফখরুজ্জামান জাবেদ মিয়াকে নির্দেশ দেন উল্লিখিত তফসিলের ভূমিতে ৩ তলা বিশিষ্ট ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করার। তার কথামতো কাজ শুরু করেন এবং ঘর নির্মাণের জন্য পিলার ও নিচের পাইলিং এবং ব্যাজম্যান্টের কাজ প্রায় শুরু করে শেষ পর্যায়ে। এমন পরিস্থিতিতি একই থানার তিরাশীগাঁও গ্রামের দনজা আলী ওরফে নজব আলীর ছেলে রইছ আলী, রইছ আলীর ছেলে লিলু মিয়া, দুলাল মিয়া, বেলাল মিয়া, হেলাল মিয়া, তাদের প্রতিবেশী ইছাক আলীর ছেলে ফরিদ মিয়া, দিলু মিয়া, দনজা আলী ওরফে নজব আলীর ছেলে সিরাজ মিয়া, একই এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মুক্তার মিয়া, একই এলাকার আব্দুল আলীর ছেলে ইউপি সদস্য দিলওয়ারসহ অজ্ঞাত নামা ১০/১৫ জন ব্যক্তি নির্মাণাধীন ভবনের চলমান কাজে বাঁধা প্রদান করে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। গত ১৪ এপ্রিল ও ১৫ এপ্রিল তারা বাঁধা প্রদান করে। যার সংরক্ষিত ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে। কাজে বাঁধা প্রদানকালে ওই ভূমিখেকোচক্রের কাছে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

জাবেদ মিয়া অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, গত ২০ মার্চ ৯ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশে উভয় পক্ষের দেখা হয়। গত ৮ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ৩ পাতার সম্বলিত একটি রায় ফখরুজ্জামানের পক্ষে প্রদান করেন। রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয় এই ভূমির প্রকৃত ও সঠিক মালিক ফখরুজ্জামান। রায় পাওয়ার পর উক্ত ভূমিতে কাজ শুরু করা হয়। কাজ চলমান অবস্থায় রইছ আলীর নির্দেশে তার ছেলেরা সন্ত্রাসীদের নিয়ে ভূমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে চলমান কাজ বন্ধ করে দেয়। ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেয়। এতে লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তারা ভূমিতে থাকা মালামাল নিয়ে যাবে এবং কাজ করালে জাবেদ মিয়াকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিলে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ এসে তাকে নিরাপত্তা দেয়। তাদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকির কারণে জাবেদ মিয়া মোগলাবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রিও করেছি। জাবেদ মিয়া বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনও করেছেন তিনি।

একজন অসহায় রেমিটেন্সযোদ্ধা যাতে আইনি সহায়তা পান সেই লক্ষ্যে ফখরুজ্জামানের পক্ষে পুলিশ কমিশনার ও উপপুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন জাবেদ মিয়া।

এ ব্যাপারে উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. সুহেল রেজা বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo