মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

সিলেটে এতিম শিশুকে হত্যা : ফুটেজ দেখেও ঘটনা গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ

সিলেটে এতিম শিশুকে হত্যা : ফুটেজ দেখেও ঘটনা গোপন রাখে কর্তৃপক্ষ

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


নুরুল হক শিপু

দুই মাস আগে একজন সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুটিকে ছোটমণি নিবাসে দিয়েছিলেন। সেখানে তার নাম রাখা হয় নাবিল। তার বাবা কে তা কেউ জানেন না। তবে সে ভবঘুরে এক নারীর সন্তান। ছোটমণি নিবাসে দেওয়ার ঠিক দুই মাস পর তাকে প্রথমে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এবং পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

সেই দৃশ্য ধারণ হয় সেখানকার সিসি টিভির ফুটেজে। এ ঘটনায় আয়া সুলতানা ফেরদৌসী সিদ্দিকাকে প্রধান আসামি করে উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব আলম ম-ল কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নাবিল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন এই আয়া।

জবানবন্দিতে সুলতানা জানান, উচ্চরক্ত চাপের কারণে ওইদিন সকালে ওষুধ সেবন করেন তিনি। তার মাথা ঠিক ছিল না। শিশু নাবিল কাঁদছিল। তার কান্না সহ্য হয়নি। পরে তিনি নাবিলকে ছুঁড়ে ফেলে দেন এবং পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনা অফিস কর্তৃপক্ষ প্রথম দিনই সিসি টিভির ফুটেজে দেখে, কিন্তু তারা যৌথভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। ছোটমণি নিবাসের উপতত্ত্বাবধায়ক রূপক দেবসহ আরও কয়েকজন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ায় জড়িত ছিলেন বলেও স্বীকারোক্তি দেন সুলতানা।

আরও পড়ুন : সিলেটে ২ মাসের এতিম শিশুকে হত্যা : আয়ার দোষ স্বীকার, জেলে প্রেরণ

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়াতে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ওসি আরও জানান, শিশু নাবিলকে দুই মাস আগে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে নগরীর বাগবাড়ী এলাকার ছোটমণি নিবাসে নেওয়া হয়। সে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর সন্তান ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশু নাবিল হত্যার ঘটনা আড়াল করতে পরদিন অসুস্থতায় নাবিলের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে কোতোয়ালি থানায় অপমৃত্যুর মামলা করে কর্তৃপক্ষ। ওইদিনই ময়নাতদন্তের পর শিশুটির লাশ দাফন করা হয়। কিন্তু শিশুটির মৃত্যু নিয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। এর পর থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন : সিলেটে দুই মাসের এক এতিম শিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা

ঘটনার ১৯ দিন পর বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানা পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি উত্তর) আজবাহার আলী শেখ। তাকে নাবিলের মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে জানানো হয়। তখন তিনি অন্যদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ছোটমণি নিবাসের সিসিটিভির ফুটেজ যাচাই করলে হত্যার ঘটনা বেরিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিবাস চন্দ্র দাশ বলেন, ঘটনার পরপরই শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত এখনো চলমান আছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo