সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

সিলেটে একদিনে দু’জন নিহত!

সিলেটে একদিনে দু’জন নিহত!

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটে একদিনে দু’জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৯ এপ্রিল) ভোর ৬ টার দিকে সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার ঘোড়ামারা গ্রামে দুপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎস নিজাম উদ্দিন (৪০) নিহত হন। তিনি সাহেবের বাজার ঘোড়ামারা গ্রামের মরহুম বশির উদ্দিনের ছেলে। এদিকে শনিবার রাত ১০টায় সিলেট ওসমানী কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেইটের সামনে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে নাজিম নামের এক যুবক খুন হন। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নুর মিয়ার ছেলে। নিহত নাজিম পেশায় হোটেল শ্রমিক।

নাজিম নগরীর দরগাহ মহল্লার ৭৪ নং বাসার ভাড়াটিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩নং ফটকের সামনে কয়েক যুবকের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। এসময় অজ্ঞাত ৯ জন যুবক নাজিমকে ঘিরে মারধর করে। এমন সময় ৩ যুবক তার বুকের বাম পাশ, উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবার আলী শেখ বলেন, ‘সিনিয়র ও জুনিয়র দ্বন্দ্ব নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেইটে ছুরিকাঘাত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ছুরিকাহত দু’জনকেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তৃব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দু’জনের চিকিৎসা চলছে।’

তিনি বলেন, ‘আহত ও হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় মিলেনি।এদের আগ থেকে বিরোধ চলছিল। হামলাকারীদের একজন জেল খেটে কিছুদিন আগেই বের হয়েছে।’

আজবাহার আলী শেখ আর বলেন, ‘৯ জন যুবক মিলে নাজিমকে হত্যা করে। এরমধ্যে ৩ জনে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় আমরা এক জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে, শনিবার ভোরে সাহেবের বাজারে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসক নিজাম নিহত হন। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। নিহত ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বাজারতল গ্রামের মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সাহেবের বাজার এলাকার সাতগাছি গ্রামের রাস্তার সামনের ভূমি নিয়ে নিজাম উদ্দিন ও নয়ন গংদের সাথে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিলো। শনিবার (৯ এপ্রিল) ভোর ছয়টার দিকে নয়ন পক্ষের লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ ভূমিতে ধান কাটতে যায়। খবর পেয়ে নিজাম উদ্দিন ও তার ভাই আকরাম উদ্দিন ঘটনাস্থলে পৌছালে উপর পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ।

সংঘর্ষে ১৫ জন গুরুতর আহত হন। তারা হলেন, আকরাম উদ্দিন (৪৫) ফয়ছল (২৬), ফয়েজ (৫০), ছগন (৫৫), ইসলাম (২৮), সালমান (২৫), জাকির (৩৫)। বাকীদের নাম পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন, আজিজুর রহমান (৪২), ছয়ফুল আলম (৪০), মকবুল মিয়া (৪১) ও সমছুল আলম (৪২)।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির। তিনি জানান, নিজাম উদ্দিনের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুই একর জমি নিয়ে পল্লী চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন ও একই এলাকার নয়ন মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি মিমাংসার জন্য এলাকায় সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিস থেকে দুই পক্ষকেই ওই জমি চাষাবাদে বিরত রাখা হয়। সালিশকারকরা নিজেদের মানুষ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি চাষাবাদের ব্যবস্থা করেন।

সিদ্ধান্ত হয়, যে পক্ষ সালিশে জমির মালিকানা পাবে তারা ফসল নিবে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার (৯ এপ্রিল) সেহরির পরে অর্ধ শতাধিক লোক নিয়ে নয়ন মিয়া পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমির ধান কাটতে যান। খবর পেয়ে পল্লী চিকিৎসক আকরাম উদ্দিন ও অপর ভাই পল্লী চিকিৎসক নিজাম উদ্দিন তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে ধান কাটতে বাধা দেন।

এসময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনি খুন হন। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মো. নিজাম উদ্দিন। গুরুতর আহত হয়েছেন আকরাম উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo