মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০১:০৩ অপরাহ্ন

সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ

sylhetlive24.com
লালবৃত্তে এক গ্রহিতার কাছ থেকে ২ হাজার টাকার ঘুষ নিচ্ছেন এক কর্মচারি।


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ জানুয়ারী সোমবার কামাল বাজারের সৈয়দ পুর গ্রামের সমসু মিয়ার বাড়িতে পর্চা বিতরণে সরকারি ফি নির্ধারিত ১২০ টাকার পরিবর্তে ২ শত টাকা কারো কাছ থেকে ২/৩ হাজার টাকা গুনেছেন সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের মৌসুমী কর্মকর্তারা। মৌজার ভূমি অনুযায়ী সংশোধনীর নামে কর্মকর্তারা এই টাকা গুনছেন সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের মৌসুমী কর্মকর্তা আবুল জলিল, নিজাম উদ্দিন ও অমৃত চাকমা। পর্চা নিতে কেউ টাকা পরিশোধ না করতে পারলে, তাকে টাকা নিয়ে অন্যদিন তাদের সাথে যোগাযোগ করার কথাও বলছেন! তবে সরকারি ফি ছাড়া তারা টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করলেও অতিরিক্ত টাকা কেনো নিচ্ছেন এর সদুত্তর দিতে পারছেন না গ্রহিতাদের।

সেটেলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গেলো বছর লক্ষিপাশা মৌজার ৩০ ধারা ও ৩১ ধারার আপীল মামলা সমূহ নিস্পন্ন হয়। ৩২ ধারা মুতাবেক মৌজার চুড়ান্ত পর্চা কামাল বাজারের সৈয়দ পুর গ্রামের সমসু মিয়ার বাড়িতে পর্চা বিতরণ করেন তারা। গত বছরের শুরুতে মাঠ জরিপের কাজ শুরু হয়। অন্য বাকি ইউনিয়নের জরিপও (অ্যাটেস্টেশন) শেষ হয়েছে।

লালবৃত্তে এক গ্রহিতার কাছ থেকে ২ হাজার টাকার ঘুষ নিচ্ছেন এক কর্মচারি।

ভূমির মালিকেরা বলেছেন, সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লক্ষিপাশা মৌজার ৩০ ধারা ও ৩১ ধারার আপীল মামলা নিশ্পত্তির পর ৩২ ধারা মুতাবেক মৌজার চুড়ান্ত পর্চা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দিচ্ছেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন গ্রহিতা বলেন, সাধারণত সেটেলমেন্ট অফিসের মাঠপর্যায়ে জরিপ চলাকালে অনিয়ম বেশি হয়। একজনের জমি অন্যজনের কাছে চলে যায়। তাই জরিপ চলাকালে প্রতিটি মৌজার জমির মালিকদের পূর্বের মাঠ পর্চা নিয়ে হাজির থাকতে হয়। এ সময় তাঁদের জমির সীমানা বা আল দেখিয়ে দিতে হয়। জরিপের সময় শহরে বা বিদেশে অবস্থান করা জমির মালিকদের রেকর্ডে কম দেখানোর সুযোগ থাকে। তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী বা নিকট আত্মীয়রা আমিনদের ঘুষ দিয়ে নিজেদের নামে বেশি জমি রেকর্ড করিয়ে নেন। পরে দাগে কম পাওয়া জমির মালিকেরা খবর পেয়ে ৩০ ধারা ও ৩১ ধারার সংশোধনীর মাধ্যমে রেকর্ড ঠিক করতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হন।

বিষয়টি জানতে মৌসুমী কর্মকর্তা আবুল জলিল, নিজাম উদ্দিন ও অমৃত চাকমার মুঠোফোনে কল করলে তারা কল রিসিভ করেননি।

সোমবার কামাল বাজারের সৈয়দ পুর গ্রামের সমসু মিয়ার বাড়িতে এসব অপকর্ম চলে। এসময় একজন পর্চা গ্রহিতা সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের মৌসুমী কর্মকর্তা আবুল জলিল, নিজাম উদ্দিন ও অমৃত চাকমা’র ভিডিও ধারন করেন।

গতকাল রোববার সেই ভিডিওটি আসে সিলেট লাইভ টুয়েন্টিফোর ডটকম কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ বিষয়ে সিলেটের সেটেলমেন্ট অফিসের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সৈয়দ ফারুক আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এক্সক্লুসিভ সব খবর পেতে আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিন, শেয়ার করুন।
www.facebook.com/SylhetLive24.com






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo