শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৭:২৫ পূর্বাহ্ন

সরকারি নির্দেশনা :
করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে মাস্ক পরুন, নিরাপদ থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন। সৌজন্যে : SylhetLive24.com
আজকের গুরুত্বপূর্ণ যত খবর
জকিগঞ্জে চলছে মাইকিং : ঢুকছে পানি, ভাঙলো ৩ নদীর মোহনার ডাইক মাধবপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গালে ছ্যাঁকা! ছাত্রদল নেতা রুবেল ও রাসেলের জামিন লাভ, কারা ফটকে সংবর্ধনা বজ্রপাতে তিন শিশুর মৃত্যু শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জবাবদিহিতা বিষয়ক সংলাপ সিলেটে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করলেন জেবুল সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে : ডা. শিপলু জগন্নাথপুরে মসজিদ নির্মাণের নামে সরকারি স্কুলের জমি দখল সিলেট সদর উপজেলা যুবদল থেকে ডালিম বহিস্কার সিলেটে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত বিশ্বনাথে ধর্ষকের হুমকি, অসহায় মা-মেয়ে উপশহরে পানিবন্দি মানুষের পাশে দিদার রুবেল অ্যাড. জামানের মায়ের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সিলেটে বন্যার্তদের পাশে মহানগর আ. লীগের সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন সিলেট নগরী রক্ষার্থে ‘শহর রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ প্রয়োজন : মহানগর বিএনপি সিলেটের বানভাসী মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়ার দাবি বাসদের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রুবি আলমের উদ্যোগে খাদ্য বিতরণ সিলেটে জামায়াত-শিবিরের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা ছাত্রদল নেতা রুবেল ও রাসেলের গ্রেফতারে কয়েছ লোদীর নিন্দা দেশের মানুষ সরকারের পাশে, ষড়যন্ত্রকারীদের স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘সর্বাত্মক লকডাউন’, আজ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ

‘সর্বাত্মক লকডাউন’, আজ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ

sylhetlive24.com


সিলেট লাইভ ডেস্ক :: করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আজ বুধবার ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ১৩ দফা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এই আট দিন গণপরিবহন-বাস, ট্রেন, লঞ্চ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ থাকবে। সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে (কর্ম এলাকা) থাকতে হবে।

শপিংমল ও অন্যান্য দোকানপাটও বন্ধ থাকবে। তবে নির্দিষ্ট সময় খোলা থাকবে ব্যাংক, কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের দোকান। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে এই সময়ের মধ্যে শিল্পকারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিশ্রমিক পরিবহন ও গণমাধ্যমসহ সব ধরনের জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে।

এদিকে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেন চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। তবে, অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

করোনা মহামারি প্রতিরোধে উল্লিখিত বিষয়সহ ১৩ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে অফিস আদেশ জারি করে সেগুলো হচ্ছে–

১. সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি অফিস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এসব অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে (কর্ম এলাকা) অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৩ সব ধরনের পরিবহণ (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

৪. শিল্পকারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা, চিকিৎসাসেবা, মরদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে, টিকা কার্ড দেখানো সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত শুধু খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।

৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষিশ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

১০. সারা দেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

১১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবির নামাজের জামাতের বিষয়ে ধর্মমন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে এবং

১৩. এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারঘোষিত বিধিনিষেধ চলাকালে পণ্যবাহী পরিবহন যাতে কোনোভাবেই যাত্রীবাহী পরিবহণে রূপ না-নিতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চলমান কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি সভায় যুক্ত হন।

তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় লঞ্চ ও ফেরিঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। কেউ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ ধরনের মনোভাব করোনা সংক্রমণকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে, উল্লিখিত বিধিনিষেধ মানাতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিধিনিষেধ জারির পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিওবার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার দেওয়া বিধিনিষেধগুলো যাতে সবাই যথাযথভাবে পালন করে, সেজন্য মাঠ প্রশাসনকে, বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।’ একইসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেন ভিডিওবার্তায়।

আগামী ১৪-২১ এপ্রিল ‘লকডাউনের’ সময় শিল্পকারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা না-করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকেই জানি, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের প্রচণ্ডভাবে আঘাত করেছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিল্প-কলকারখানা চালু রাখতে পারি। তবে, শিল্প এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থেই শিল্পকারখানাগুলো খোলা রাখা হবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo