মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

সংগঠন থেকে সজিব বহিষ্কার, সিনিয়ররা নিশ্চুপ!

সংগঠন থেকে সজিব বহিষ্কার, সিনিয়ররা নিশ্চুপ!

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিবকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েলে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিবকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মহানগর বিএনপির আওতাধীন ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক টিম লিডার এমদাদ চৌধুরী। তিনি ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। সাবেক ছাত্র নেতা, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নিবেদিত মামলা হামলার নির্যাতিত নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে অখ্যাত নিজের পকেটের এমনকি ইউনিয়নের বাসিন্দাদেরকে দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেন। যে কারনে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ২৭ এপ্রিল মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তার উপর হামলা করে। তার উপর হামলার ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নানান জনে নানান মন্তব্য :

একজন লিখেছেন, এমদাদ চৌধুরীর উপর হামলার জেরে সজিব বহিষ্কার। বিএনপির এই দুঃসময়ে আজিজ খাঁন সজিবের মত নেতা সৃষ্টি হওয়া কঠিন, তাদের বহিষ্কার করা সহজ। আমরা আবারো বলতে চাই আজিজ খাঁন সজিব শুধু আওয়ামী লীগের আতংক নয়, দলের তাদের পোষা দালালদেরই আতংক।

আরেকজন লিখেছেন, কেন্দ্রে সঠিক তথ্য তুলে ধরা হলন না কেন? সিনিয়ররা নিশ্চুপ কেনো। সজিবের মতো একজন কর্মী পাওয়াও সিলেট সেচ্ছাসেবকে দলের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। সিনিয়ররা নিশ্চুপ এর খেসারত আপনাদের ভবিষ্যতে দিবেন।

এ ব্যাপারে আজিজ খান সজিব বলেন, ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এমদাদ চৌধুরী ভাই ও অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কিছু ভূল বুঝাবুঝি হয়। যার প্রেক্ষিতে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত একটা ঘটনা ঘটে। আমি সিনিয়র হিসাবে চেষ্টা করেছি বিক্ষোব্ধ নেতাকর্মীদের নিবৃত করতে। কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করিয়েছেন।

সজিব দাবি করে বলেন, আমি দলের কোন শৃংখলা বা ভাবমূর্তি নষ্ট করিনি। পরিশেষে তিনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

sylhetlive24/সিলেট লাইভ

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ও ইন্ধন ছিল সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সিলেট বিএনপির আরও একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীদের পৃষ্টপোষক বলে পরিচিত বিএনপি চেয়ারপার্সনের সিলেটি এক উপদেষ্ঠা তাদের বাঁচাতে রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে সিলেট বিএনপি ও এর অঙ্গ, সহযোগি সংগঠনে শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিশ্চুপ থাকলেও সাধারণ নেতাকর্মীরা বিএনপির শীর্ষ সারির নেতার ওপর অপমানজনক হামলার বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না।

তাদের মতে, আগামীদিনে যারাই বিএনপি চেয়ারপার্সনের আলোচিত ওই উপদেষ্ঠার বিরুদ্ধাচরণ করবেন-এমদাদ চৌধুরীর মতো তারাও একই ধরণের পরিণতির শিকার হতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২৭ মার্চ রাতে সিলেট নগরীর ভাতালিয়াস্থ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালি পংকির বাসায় মহানগর বিএনপির ইফতার আয়োজন ও প্রধান অতিথি কাকে রাখা যায়-তা নিয়ে সভা চলছিল। এসময় সভাকক্ষেই স্বেচ্ছাসেবক দলের একপক্ষের হাতে নির্যাতিত ও লাঞ্ছিত হন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। আম্বরখানা ও চৌখিদেখি এলাকা থেকে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের একদল নেতাকর্মী সভাকক্ষে ঢুকে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে এবং তাকে টেনে হিঁচড়ে বাইরের একটি ঘরের এনে মারধরও করে। এতে এমদাদ চৌধুরী আহত হন।

মারধরের পর রাতেই এমদাদ হোসেন চৌধুরীর বাসায় ছুটে যান হামলাকারীদের নেতা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। সঙ্গে ছিলেন সিলেটে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তারা গিয়ে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে সান্ত্বনা দেন।

যদিও মহানগর বিএনপির ইফতার মাহফিলে অতিথি করা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধে। লন্ডন থেকে নির্দেশনা আসে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করতে। কিন্তু একটি পক্ষ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে অতিথি করতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকুকে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি করা হলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের অবস্থান প্রটোকলে নিচে নেমে যাবে। যে কারণে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধাচারণ করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফরহাদ চৌধুরী শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কামাল হাসান জুয়েল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহিদ সোহেল ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামালসহ তাদের বলয়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় তাদের মতের বিরোধিতা করেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ কারণেই সভাকক্ষে এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ডিম নিক্ষেপ ও মারধর করা হয়।

দলীয় সূত্রমতে, এমদাদ হোসেন চৌধুরীর উপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং ইন্দনদাতা স্বেচ্ছাসেবক দলের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা আসে দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হামলাকারী ও তাদের মদদদাতারা রক্ষা পেলেও বলির পাঠা বানানো হয় সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক আজিজ খান সজিবকে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo