মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০২:৫১ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী রমজানের মৃত্যু : নেপথ্যে চাচা ফরহাদ গং

শিবগঞ্জে ব্যবসায়ী রমজানের মৃত্যু : নেপথ্যে চাচা ফরহাদ গং


নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত্যু অবধারিত। আবার কিছু মৃত্যু হয় প্রশ্নবিদ্ধ। যেসব মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মেনে নিতে চায় না অনেকে। সিলেটে এমনই একটি মৃত্যু এখন প্রাসঙ্গিক। এই মৃত্যু সম্পর্কিত প্রাপ্ত কিছু তথ্য বিশ্লেষন করলে যে কারো মনেই প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। চলতি মাসের ১৯ ফেব্রুয়ারি সিলেটের শিবগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল মুকিত রমজান নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। যদিও মৃত্যুটি ছিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। তবে এর নেপথ্যে অনেক কিছু!

পেশায় নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহকারী ছিলেন আবদুল মুকিত রমজান। বয়স ৫৫ বছর। বাস করতেন নগরীর শিবগঞ্জস্থ বোরহানবাগ লাগোয়া গোলাপবাগে। সুস্থ্য সবল একজন মানুষের হঠাৎ করেই এমন প্রস্থানে হতবাক পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী। এই ঘটনাটি রমজানের পরিবারের কেউ কল্পনা করতে পারেনি। তাদের প্রশ্ন-সুস্থ স্বাভাবিক একটা মানুষ কিভাবে না ফেরার দেশে চলে যাবে?

প্রাপ্ত তথ্য এবং রমজানের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন পূর্ব থেকে পারিবারিক মৌরসী একখ- জমি নিয়ে একটি পক্ষের সাথে সমস্যা চলছিল রমজানের। তাঁর উক্ত মৌরসী সম্পত্তির উপর নজর পড়ে একটি ভূমি খেকো চক্রের। ভূমিটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠে ওই চক্রটি। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমি আত্মসাতে একের পর এক পরিকল্পনা করে তারা।

অবস্থা যখন অসহনীয় পর্যায়ে তখন আইনী সহায়তা নিতে উদ্যোগী হন ভুক্তভোগী আবদুল মুকিত রমজান। এরই অংশ হিসেবে আবদুল মুকিত রমজান চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি নিজ জমি বেদখল হওয়ায় আশঙ্কায় সিলেটের শাহপরাণ (র.) থানায় একটি জিডি দায়ের করেন। জিডি দায়েরের পর ২৮ জানুয়ারি সকালবেলা ঘটনাস্থলে আসেন শাহপরাণ (র.) থানার একজন অফিসার। ওই সময় রমজান নিজ ভূমিতে উন্নয়ন কার্যক্রম করছিলেন। শাহপরাণ (র.) থানার ওই অফিসার এসময় রমজানকে কাজ বন্ধ করে সন্ধ্যাবেলায় কাগজপত্রসহ থানায় হাজির হতে নির্দেশ প্রদান করেন এবং একই সাথে রমজানের উল্লেখিত ভূমিটি বিরোধপূর্ণ উল্লেখ করে ওই ভূমিতে সকল প্রকার কাজকর্ম করতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।

এদিকে পুলিশ অফিসারের নির্দেশ অনুযায়ী ওই দিন সন্ধ্যাবেলা কাগজপত্রসহ শাহপরাণ (র.) থানায় হাজির হন আবদুল মুকিত রমজান। রমজান যথাসময়ে কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হলেও প্রতিপক্ষ জনৈক ইকবাল হোসেন ওই ভূমির কোনোরূপ কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হন। এ ঘটনার চারদিন পর ২৯ জানুয়ারি শাহপরাণ (র.) থানার এসআই ওবায়দুল্লাহর ফোন আসে রমজানের কাছে।

মুঠোফোনে তিনি রমজানকে ওইদিন সন্ধাবেলা আনুমানিক ৭ টায় শহরের সোনারপাড়ায় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করতে বলেন। কথা অনুযায়ী রমজান রাত সাড়ে ৭ টায় নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে রমজান ও সাথে থাকা রাজুকে পুলিশ একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরদিন ৩১ জানুয়ারি দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ আদালত জমি-জমার কাগজপত্র দেখে উভয়কেই জামিন প্রদান করেন।

এদিকে ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি দুই দিন রমজান জেলে থাকায় তাঁর পরিবারের উপর নেমে আসে চরম দুর্গতি। রমজানের অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা একের পর এক হুমকী দিতে থাকে। একাধিক হত্যা মামলার আসামী চাচা ফরহাদ, শিপলু, ইশবাল ও পাপলুসহ নেপথ্যের নায়কেরা রমজানের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। যদিও এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে বারবার ওই চক্রের হামলা রুখে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর এসব ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েন রমজান। তিনি ঘটনার সুবিচার কামনা ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে পুলিশ কমিশনার বরাবরে একটি দরখাস্ত প্রদান করেন। দরখাস্তে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা ও সমস্ত বিষয় অবগত করে সহায়তা কামনা করেন। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের এ ধরণের তৎপরতা থেকে বিরত রাখতে ১০৭/১১৭ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করেন। কারাগারে ২ দিন থাকা অবস্থায় তাঁর পরিবারের প্রতি হত্যা ও চাঁদাবাজির হুমকীর কারণে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে তা তদন্তাধীন আছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo