শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

‘শান্তা লোভী, উশৃংখল ও মিথ্যাবাদী’ : সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ

‘শান্তা লোভী, উশৃংখল ও মিথ্যাবাদী’ : সংবাদ সম্মেলনে মায়ের অভিযোগ

sylhetlive24/সিলেট লাইভ
ইনসেটে লাল বক্সে জাহেদা আক্তার শান্তা'র ফাইল ছবি।


 

সিলেট লাইভ ডেস্ক

নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন একজন গর্ভধারিণী মা। বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মেয়ে জাহেদা আক্তার শান্তার মিথ্যাচারের প্রতিবাদ এবং তার অন্যায়ের ফিরিস্তি তুলে ধরেন রাজধানী ঢাকার সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা শান্তার মাতা ঝর্ণা বেগম। এসময় ঝর্ণা বেগমের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শান্তার ছোটবোন আয়েশা আক্তার।

 

সংবাদ সম্মেলনে-

আয়েশা জানান, জাহেদা আক্তার শান্তা সিলেটের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বাবুলের স্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি বাবুল-শান্তা দম্পতির একযুগের সংসার জীবনের ইতি ঘটে। এই বিচ্ছেদের পেছনে কারণ শান্তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও উচ্চাবিলাসী মানসিকতা। পরিবারের বন্ধনের চেয়ে অর্থ-সম্পত্তির লোভই তাকে গ্রাস করেছে। শান্তার মাদকাসক্ত। মাদকের নেশাতে তাদের পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। অপরদিকে- প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েও সমাজে নিজের অবস্থান ও লোকলজ্জার ভয়ে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাবুল নিজের দুঃখ কারো কাছে প্রকাশ করেননি। এত অশান্তির পরও দুঃখ-কষ্ট বুকে চেপেই তিনি সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যায় বাবুলের এবং একপর্যায়ে তিনি শান্তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। তবুও শান্তি পাননি বাবুল, শান্তা তাকে ফোনে নানান ভাবে হুমকি প্রদান করতে থাকে। বাধ্য হয়ে বাবুল থানায় অভিযোগ করেন। এরপরও শান্তা থেমে থাকেনি, সে বাবুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে-

আয়েশা আক্তার মায়ের পক্ষে আরও জানান, নজরুল ইসলাম বাবুল শান্তাকে স্ত্রী হিসেবে যথেষ্ট সম্মান মর্যাদা দিয়ে ছিলেন। এমনকি শান্তার ১ম পক্ষের ছেলে মেয়েকেও মেনে নেন তিনি। কিন্তু শান্তা তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসী জীবনের কারণে নিজের মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। ভেঙে যায় তার ১২ বছরের সংসার। শান্তার নামে বাবুল একটি বাসা, একটি প্রতিষ্ঠানও করে দেন। প্রায় ৪ কোটি টাকা পুঁজি দিয়ে গড়া মোহাম্মদ আলী স্টিচ নামের প্রতিষ্ঠানের পুরো বিনিয়োগই বাবুলের। এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাসে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় হলেও এর একটি টাকাও নেন নি তিনি।

তারপরও শান্তার টাকার চাহিদা কমেনি। শান্তা তার প্রথম পক্ষের মেয়ের জামাই মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগসাজশ করে বার বারই নজরুল ইসলাম বাবুলকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং পরিবারে অশান্তির সৃষ্টি করতে থাকে।

গেলো রমজানেও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের কথা বলে শান্তা ৩০ লাখ ঋণ নেয় বাবুলের কাছ থেকে। এই ঋণের এক টাকাও ফেরত দেয়নি শান্তা। এ নিয়েও সংসারে আরও অশান্তি দেখা দেয়।

আয়েশা জানান, বাবুল সম্প্রতি তার ছেলে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে গেছেন। কিন্তু শান্তা প্রচার করছে- বাবুল তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ফোনেও শান্তার মায়ের কথা হয়েছে। সে ভালো আছে। তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটা নবায়ন করতে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে বাবুলের দেশে ফিরতে দেরি হচ্ছে।

জাহেদা আক্তার শান্তার মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাহেদা আক্তার শান্তার মা ঝর্ণা বেগম, ছেলে জুবায়ের ইসলাম আমান ও ছোট বোন সালমা ইসলাম।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo