মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৪:২২ অপরাহ্ন

লকডাউনে কঠোর অবস্থানে এসএমপি

লকডাউনে কঠোর অবস্থানে এসএমপি

sylhetlive24.com


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সর্বাত্মক লকডাউনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এসএমপি। রবিবার নগরীর বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের তৎপর ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। রাস্তায় বের হওয়ার যৌক্তিকতা না থাকায় অনেককে চেকপোস্টে পুলিশকে আটকাতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও জরুরি প্রয়োজনের বাইরেও বিভিন্ন ‘অজুহাতে’ রাস্তায় চলাচলের চেষ্টা করেছেন অনেকে। দ্বিতীয় দফায় কড়াকড়ি লকডাউনের ৫ম দিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

কঠোর লকডাউন অমান্য করে রিকশা নিয়ে বের হন চালকরা। লকডাউনের এ কয়দিন নির্বিঘ্নে রিকশা চালিয়েছেন তারা। লকডাউনের ৫ম দিনে এসে রিকশা চালকদেরও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

sylhetlive24.com

রোববার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১ টার দিকে পুলিশী অভিযানে সিলেট নগরীতে অন্তত; অর্ধশতাধিক রিকশা জব্দ করা হয়। লকডাউনে মুভমেন্ট পাস ছিল না কোনো রিকশা যাত্রীর। অতিজরুরি প্রয়োজনের প্রমাণ দেখাতে পারেননি। ফলে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে হেটে বাসায় ফিরতে বলা হয়। আর রিকশা জব্দ করে একটি স্থানে রাখা হয়।

এসময় চালকরা অনুনয় বিনয় করলে লকডাউন অমান্যের শাস্তিস্বরূপ পুলিশ রিকশার বাতাস ছেড়ে চালকদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কেবল নগরীর সিটি পয়েন্ট কিংবা কোর্ট পয়েন্ট নয়, জিন্দাবাজার, সুবহানীঘাট, মেন্দিবাগসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের তৎপরতা দেখা যায়। নগরীর চৌহাট্টা, আম্বরখানা, তালতলা, দক্ষিণ সুরমার কদমতলী, সোবহানীঘাট, মেডিক্যাল রোড, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, এয়ারপোর্ট রোডে পুলিশের নজরদারি ছিলো চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চলছে টহল। কোথাও সড়কেই আচমকা থামানো হচ্ছে গাড়ি। জিজ্ঞেস করা হচ্ছে বের হওয়ার কারণ।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এর আগে যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়, এর মধ্যে ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া লকডাউন সিলেটে কঠোরভাবে পালন হচ্ছে। লকডাউনের ৫ম দিন হিসেবে নগরীর বিভিন্ন সড়ক অনেকটা ফাঁকাই ছিলো। তবে, অন্য দিনের তুলনায় সড়কে মানুষের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এছাড়া, সড়কের পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতেও ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। অপরদিকে, বন্ধ ছিল দোকানপাট ও শপিংমলগুলো। কিন্তু সিএনজি ও অটোরিক্সা খুব বেশি চোখে পড়েনি।

জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হওয়া বেশিরভাগ লোকজন রিক্সা করে যাতায়াত করছেন। তবে মাঝেমধ্যে দু-একটি ব্যক্তিগত গাড়ি চলতে দেখা গেছে। অপ্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে ঘরে ফেরাতে রাস্তায় রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বোববার সিলেট কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর ছিলো সুনসান নীরব। সিলেট থেকে কোনো বাস, রেল ছেড়ে যায়নি। তাই, যাত্রীদের আনাগোনা ছিল না এসব স্থানে।

sylhetlive24.com

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সল মাহমুদ বলেন, লকডাউনের প্রথম থেকে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সচেষ্ট রয়েছে পুলিশ। যারা আইন মান্য করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গাড়ির ওপর মামলাও দেওয়া হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে। যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন, মুভমেন্ট পাস না নিয়ে বাইরে বের হচ্ছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদেরকে জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানার পাশাপাশি জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না আসার জন্য এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধও করছে পুলিশ।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo