সোমবার, ০৪ Jul ২০২২, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

মার খেলেন কাউন্সিলর সেলিম, বদলা নিলেন অনুসারীরা

মার খেলেন কাউন্সিলর সেলিম, বদলা নিলেন অনুসারীরা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
ইনসেটে- কাউন্সিলর সেলিমের ফাইল ছবি ও হাসপাতালে আহত সাজ্জাদ।


বিশেষ প্রতিবেদক

মার খেলেন কাউন্সিলর সেলিম, কাউন্সিলর সেলিমের সাথে দোকানীর হাতাহাতি, বদলা নিলেন অনুসারীরা! রোববার রাতের টক অব দ্যা টাউন। বিষয়টি নিয়ে শহর জুড়ে তোলপাড় চলছে। এদিকে আহত যুবক ও তার পরিবার সেলিম বাহিনীর ভয়ে রাত দেড়টায় হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে! ঘটনা ২ জানুয়ারী রোববার সন্ধ্যার। ঘটনাস্থল নগরীর উপশহর এলাকার মেইন রোডের এ ব্লকের ৮ নং রোড সংলগ্ন কিসমত কমপ্লেক্সের ফ্যামেলি বাজার নামক দোকানের সামনে।

প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর উপশহর এলাকার নির্মাণাধীন ড্রেন পরিদর্শন শেষে মেইন রোডের এ ব্লকের ৮ নং রোড সংলগ্ন কিসমত কমপ্লেক্সের ফ্যামেলি বাজার নামক একটি দোকানে যান ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (সাময়িক বহিষ্কৃত) ছালেহ আহমদ সেলিম। সেখানে বসা দোকানী সাজ্জাদকে তিনি এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট দিতে বলেন। এমসয় দোকানী সাজ্জাদ তাকে জানান, বেনসন নেই, শুধু ডার্বি আছে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সাজ্জাদকে গালি দিয়ে বসেন কাউন্সিলর সেলিম। এর প্রতিবাদ করে দোকানী সাজ্জাদ। শুরু হয় বাকবিতন্ডা! একপর্যায়ে কাউন্সিলর সেলিম চড়াও হন দোকানী সাজ্জাদের উপর। সাজ্জাদও কম যান না। তিনি এ সময় কাউন্সিলর সেলিমকে সমানে চড় থাপ্পড়, উত্তম-মধ্যম দেন। দুজনেই মাটিতে গড়াগড়ি করে কুস্তি করেন। পরে কাউন্সিলর সেলিম রাগে ক্ষোভে লোকলজ্জায় সেই স্থান ত্যাগ করে চলে যান নিজ কার্যালয়ে। ঘটনার পর ভয়ে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যান সাজ্জাদ। কিছুক্ষণ পর কাউন্সিলর সেলিম তার অনুসারীদের পাঠান সাজ্জাদকে ধরে আনতে। নির্দেশ পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় কাউন্সিলর সেলিমের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন রশিদ (এইচ আর) সুমন, ইয়াহইয়া ও চঞ্চল, মিন্নত, সিএনজি শাহীন এ ব্লকের ১৯ নম্বর রোডের বাসা থেকে ধরে আনেন সাজ্জাদকে। বিচার শালিসের কথা বলে কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের কার্যালয়ে ডেকে এনে দরজা বন্ধ করে অকথ্যভাবে শারিরীক নির্যাতন করা হয় হতদরিদ্র দোকানী সাজ্জাদকে। এই নির্যাতনের মিশনে অংশ নেন সেলিম নিজে এবং তার অনুসারী মিন্নত, সুমন, ইয়াহইয়া, সিএনজি শাহীন, চয়নসহ বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে ওই সাজ্জাদকে পায়ে উপুর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করেন কাউন্সিলর সেলিম অনুসারী সন্ত্রাসীরা। রক্তাক্ত অবস্থায় গুরুতর আহত সাজ্জাদকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের ৩ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।

রোববার রাতে হাসপাতালে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায় তার বাম পায়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩ ব্যাগ ও পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়েছে তাকে। আহত সাজ্জাদের বাড়ি জকিগঞ্জ উপজেলায়। হাসপাতালে সাজ্জাদের সাথে থাকা তার বন্ধুরা ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি।

ফ্যামিলি বাজারের মালিক পাভেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে নিজেকে পাভেল বলে পরিচয় দিলেও, সাংবাদিক পরচিয় জানার পর রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আবারও কল দেওয়া হলে তিনি জানান, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। জকিগঞ্জে ছিলাম। এখন ওসমানী হাসপাতালে সাজ্জাদকে নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছি।

বিষয়টি কাউন্সিলর ছালেহ আহমদ সেলিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন ব্যস্ত দেখায়।

দোকানী সাজ্জাদ জানায়, এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট না থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমায় গালি দিয়ে বসেন কাউন্সিলর সেলিম। এর প্রতিবাদ করাই আমার অপরাধ। আমাকে মারধর করেন তিনি। আমি শুধুই প্রতিবাদ করেছি। বিষয়টি স্থানীয়রা দেখেছেন। ঘটনাস্থলের আশপাশে অনেক সিসি ক্যামেরা আছে। খোঁজ নিলে ফুটেজ পাবেন।

সাজ্জাদের উপর হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান খান। তিনি জানান, এ ধরণের একটি ঘটনার খবর পেয়েছি। আমি ফোর্স পাঠিয়েছি। এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo