শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

বিশ্বে করোনার তাণ্ডব, আসছে আরেক মহামারি ‘খরা’

বিশ্বে করোনার তাণ্ডব, আসছে আরেক মহামারি ‘খরা’

sylhetlive24.com


সিলেট লাইভ ডেস্ক

বিশ্বে তাণ্ডব শেষ হয়নি করোনার। প্রায় দেড় বছর ধরে বিশ্বব্যাপী দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে করোনা নামক মহামারি। করোনার মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তবে করোনা থেকে বাঁচার জন্য নানা চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে। আবিস্কার হয়েছে এর প্রতিষেধক-টিকা। দেশে দেশে মানুষ টিকা গ্রহণ করছে। অনেক দেশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে করোনা। তাছাড়া, বিশ্ববাসী আশাবাদী যে, একদিন করোনামুক্ত হবো আমরা।

কিন্তু করোনার পরে আরেকটি মহামারির সংকেত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। সেটা হলো ‘খরা’। যার কোন টিকা আবিস্কার করা সম্ভব হবে না।

বিশ্ববাসীর সামনে আরেকটি আতঙ্ক ‘খরা’। অবশ্য এটি যে মানুষের অজানা, এমন নয়। তবে ব্যাপারটি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না সেভাবে। মূলত জলবায়ু সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি ও ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সঠিক পর্যায়ে নিয়ে এসে জলবায়ু সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে শিগগীরই ‘খরা’ নামের গোপন মহামারির আক্রমণে নেতিয়ে পড়বে বিশ্ব।

জাতিসংঘ বলেছে, এই শতাব্দীতে বিশ্বের কমপক্ষে একশ’ ৫০ কোটি মানুষ খরার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে একশ’ ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। খরা এমন এক সম্বাভ্য মহামারি হিসেবে ধেয়ে আসছে, যার কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার সম্ভব হবে না। আর ততোদিনে ভূমি অবক্ষয় এবং ফলন হ্রাসের কারণে ধুকবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।

খরা প্রবণতা এমনভাবে বাড়ছে যে, শতাব্দীর শেষ দিকে মুষ্টিমেয় দেশ ছাড়া বাকি দেশগুলো ভয়াবহ খরায় কবলিত হবে। বর্তমানে খরা, দারিদ্র্য, খাদ্য ও পানির সংকটে বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন জীবন প্রভাবিত করছে। আর এই মরুকরণের ফলেই দিনে দিনে বেড়ে চলেছে পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা।

এছাড়া, ভূমিক্ষয়ের ফলে কমছে খাদ্য উৎপাদন ১১ শতাংশ। ভূমিক্ষয় জমির উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। জলাভূমিসহ প্রকৃতির যাবতীয় বাস্তুতন্ত্র পরিষেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এটা সত্যি যে, জলবায়ু বিপর্যয় আগামীতে আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। নজিরবিহীন তাপ আটকাচ্ছে পৃথিবী। গবেষণার তথ্য হচ্ছে, ২০০৫ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে পৃথিবীর তাপ আটকানোর পরিমাণ দ্বিগুণে পৌঁছেছে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে শক্তি প্রবেশ ও প্রস্থানের মধ্যে ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ খবর হলো, খরা, দরিদ্র্য, খাদ্য ও পানির সংকটে বিশ্বের প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করছে। আর এই মরুকরণের ফলেই দিনে দিনে বেড়ে চলেছে পরিবেশগত অভিবাসীর সংখ্যা।

যে কারণে খরা বা মরুকরণকে বিশ্ববাসীর জন্য ‘মহামারি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীগণ। সুতরাং এই বৈশ্বিক বিপর্যয় ঠেকানোর উপায় তো বের করতেই হবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo