মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৭ অপরাহ্ন

নানা কৌশলে সালাম ও কাইয়ুম : মাঠে মকসুদ

নানা কৌশলে সালাম ও কাইয়ুম : মাঠে মকসুদ

sylhetlive24.com


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র কর্তৃত্ব দীর্ঘদিন ছিল শফি আহমদ চৌধুরীর দখলে। গেল নির্বাচনে প্রথমে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন ৩ জন। শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন শফি আহমদ চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও এমএ কাইয়ূম চৌধুরী। মনোনয়ন পেতে তারা সিলেট-৩ আসনের রাজনীতিতে সক্রিয়। উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার নিজ থেকেই শফি আহমদ চৌধুরী বিদ্রোহী। দলের কমান্ড মানেন নি। চূড়ান্ত ফয়সালায় শফি চৌধুরীকে করা হয় বিএনপি থেকে বহিষ্কার। সেটি অবশ্য শফি চৌধুরী চাননি।

চেয়েছিলেন বিএনপিকে পাশে রেখেই স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে চমক দেখাতে। কিন্তু বিএনপিই ছেড়ে দিলো তার সঙ্গ। শফি চৌধুরী বলছেন- বিএনপির তৃণমূল তার সঙ্গে মাঠে রয়েছে। যেদিকে যাচ্ছেন সাড়া পাচ্ছেন। কিন্তু সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনে বিএনপি যে নেই সেটি প্রমাণ করতেই সক্রিয় হয়েছেন এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম ও আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। ভোট থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরত রাখাই এখন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। ব্যারিস্টার এমএ সালাম হচ্ছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। আর এমএ কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির তরফ থেকে প্রথমে কেন্দ্রীয় নেতা শফি আহমদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও এমএ কাইয়ূম চৌধুরীকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে শফি আহমদ চৌধুরী ছাড়া কেউ নির্বাচনে অংশ নেননি। দলের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশে সালাম ও কাইয়ূম নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। শফি আহমদ চৌধুরী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিলেও তাদের ৩ জনের মধ্যে প্রকাশ্য কোনো বিরোধ পরিলক্ষিত হয়নি।

বরং যে যার অবস্থান থেকে পৃথকভাবে শক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন। নিজেদের গ্রুপ কিংবা বলয় সৃষ্টি করে সংঘাতে জড়াননি। এ কারণে সিলেট-৩ আসনে বিএনপির সুসংহত অবস্থান রয়েছে। বিএনপি নেতারা জানান, গত সংসদ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। এরপরও সেখানে ধানের শীষের প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী প্রায় ৯৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। সেটি কেবলমাত্র সম্ভব হয়েছে বিএনপির ঐক্যবদ্ধতার কারণে। এবারের নির্বাচনে নিজ সিদ্ধান্তে প্রার্থী হওয়ায় শফি চৌধুরীর সঙ্গে নেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেছেন ব্যারিস্টার এম এ সালাম ও কাইয়ূম চৌধুরী। শফি চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে যাতে বিএনপিতে শূন্যতার সৃষ্টি না হয় সে কারণে তারা সিলেটের বাইরে অবস্থান করেও যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতেও নেয়া হয়েছে কর্মসূচি।

বুধবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ যুবদল, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে। সিলেট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমদের নেতৃত্বে মিছিল শেষে বিক্ষোভ মিছিলে নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। বিএনপি এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ কারণে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতারা নির্বাচনের সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। এর আগে ব্যারিস্টার এমএ সালামের পক্ষে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মীরা আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল করে। এসব বিক্ষোভ থেকে নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের বার্তা দেয়া হয়। মিছিলের আয়োজন সম্পর্কে সিলেট জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমদ জানিয়েছেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা শফি আহমদ চৌধুরীকে নিয়ে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। আমাদের এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বার্তা দিয়েছি যে বিএনপি এই নির্বাচনে নেই। ফলে সিলেট-৩ আসনের নির্বাচনে বিএনপির কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মী সম্পৃক্ত হবে না বলে আমরা আশা করি। এর বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়েও যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, শফি চৌধুরী বহিষ্কারের পর ব্যারিস্টার এম এ সালামের অনুসারীরা বেশি সক্রিয় হয়েছেন এলাকায়। বিশেষ করে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের যুবদল, ছাত্রদলের রাজনীতিতে ব্যারিস্টার সালামের আধিপত্য বেশি। তার পছন্দের নেতারাই এখন ওই ৩ উপজেলায় যুবদল ও ছাত্রদলের মূল দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তার পক্ষে বার্তা পৌঁছানো সহজ হচ্ছে। ব্যারিস্টার এম সালাম বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ব্যারিস্টার সালাম লন্ডনে বসবাস করলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি সব সময়ই যোগাযোগ রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বিশেষ করে এই উপনির্বাচনে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবে বিভ্রান্ত না হয় সে বিষয়টি তিনি মনিটরিং করছেন। এদিকে, ঢাকায় অবস্থান করা সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বিএনপি থেকে শফি আহমদ চৌধুরী বহিষ্কারের পর সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

বিশেষ করে ফেঞ্চুগঞ্জসহ অপর দুই এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরা যাতে বিভ্রান্তিতে না পড়েন সে কারণে তিনি কাজ করছেন। গত সপ্তাহে নিজের এলাকা সফর করে গেছেন কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমাদের ম্যাসেজ ওয়ার্ড পর্যায়ে চলে গেছে। যেহেতু বিএনপি নির্বাচন করছে না, সে কারণে বিএনপির কেউ এ নির্বাচনে নেই। এ নির্বাচনে কারো পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার প্রশ্নই ওঠে না। শেষ পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনের বিএনপি কর্মীরা তাদের অবস্থানে অটল থাকবেন বলে জানান তিনি।’

এদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার জানিয়েছেন, ‘বিএনপি এই প্রহসনের নির্বাচন বয়কট করেছে। সুতরাং সিলেট-৩ আসনের শতভাগ নেতাকর্মী নির্বাচন থেকে দূরে রয়েছেন। দুইজন ইউনিয়ন নেতার সম্পৃক্ততার বিষয়ে অভিযোগ উঠলে তাদেরকে শোকজ করা হয়। পরবর্তীতে তারা শোকজের জবাবও দিয়েছেন।’






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo