মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:৪১ অপরাহ্ন

ধলাইর বালুতে রমরমা চাঁদাবাজি : জানে না উপজেলা প্রশাসন

ধলাইর বালুতে রমরমা চাঁদাবাজি : জানে না উপজেলা প্রশাসন

sylhetlive24.com


আব্দুল জলিল

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর বালু মহালে জায়গার মালিকের নামে চলছে রমরমা চাঁদাবাজি। নদীতে বালুর মালিকানার নামে প্রতি ফুট বালুর জন্য নেওয়া হয় ৫ টাকা। ধলাই নদীর বালুমহাল ইজারাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুহিন কনস্ট্রাকশন প্রতি ফুট বালুর জন্য চালান বাবদ ১.৫ টাকা নিয়ে থাকে। কিন্তু জায়গার মালিকের নামে সেখানে আবার প্রতিফুট বালুর জন্য ৫ টাকা করে নেয়া হয়। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

এই ৫ টাকা কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বালু নিতে দেওয়া হয় না। জায়গার মালিকানা দাবি করা এসব লোক খেলার মাঠ, রাস্তা ও বাজারের পাশ থেকে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় এসব এলাকা এখন নদী ভাঙ্গনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৮৬ ধারা অনুযায়ী যদি কারো রেকর্ডিও জমি নদী ভাঙ্গনের (সিকস্তি) কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় তাহলে এই জমির মালিক হবেন জেলা প্রশাসক।

এ আইন অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ছাড়া আর কেউ বালু মহালের মালিকানা দাবি করতে পারবেন না। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালী মহল আইনের তোয়াক্কা না করে দিব্যি জায়গার মালিকানা দাবি করে সেখানে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি।

ইজারাদার প্রতিষ্ঠান বলছে তাদের নিষেধ করার পরেও অতি প্রভাবশালী হওয়ায় তারা তা মানছে না। তারা বলছে, আমরা তাদের ৫ টাকার পরিবর্তে ২টা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছি এরপরও তারা মানেনি। তবে প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে, প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে আজ (২৪ জুন) সেখানে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন বলছে জায়গার মালিকানা দাবি করে টাকা নিচ্ছে এমন কোন তথ্য তাদের জানা নাই। তবে খেলার মাঠ, রাস্তা ও বাজার রক্ষার জন্য এলাকার অনেকেই অভিযোগ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাথর সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা এখন বালু ব্যবসার সাথে জড়িত। অগ্রিম টাকা দিয়ে বালু বহনের জন্য ব্যবসায়ীরা নৌকা ভাড়া করেন। কিন্তু এখানে বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে অনেকেই ব্যবসার শুরুতে লোকসান দিয়ে নৌকা ফেরত পাঠাতে বাধ্য হোন।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, এলাকার প্রভাশালী মহলের বেশ কয়েকজন মিলে জায়গার মালিকানা নামে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেট ব্যতিত অন্য কেউ জায়গার মালিকানা দাবি করতে পারবেন না। এমনকি নৌকায় বালু লোড করার জন্য লিস্টার মেশিনও কেউ চালাতে পারে না। অন্য কেউ জায়গার মালিকানা দাবি করলে বা লিস্টার মেশিন চালাতে গেলে তাকে মারপিট করে এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই সিন্ডিকেট জায়গার মালিকানা দাবি করে কলাবাড়ি খেলার মাঠ, রাস্তা ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামগঞ্জ (বুধবারী) বাজারের মেইন রাস্তার পাশে লিস্টার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করাচ্ছে। যার ফলে এই অংশ নদী ভাঙ্গনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ইসলামগঞ্জ বাজারে এই রাস্তাটি যদি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তাহলে এই এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

মাঠ পর্যায়ে এ চাঁদা উত্তোলনকারীদের ম্যানেজার মাসুক মিয়া বলেন, আমার নদীতে ৪/৫ টা নৌকা আছে আমি সেগুলো পরিচালনা করি। এর বাইরে আর আমার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন, অনেকেই নদীর এ অংশ ক্রয় করেছে রেকর্ডিও মালিকের কাছ থেকে। তারা এখানে ফুট প্রতি দুই-আড়াই টাকা নিচ্ছে।

ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন, জায়গার মালিকানা দাবি করে একটি মহল ঐতিহ্যবাহী ইসলামগঞ্জ (বুধবারী) বাজারের পাশে নৌকা লোড করাচ্ছে। বাজারটি রক্ষার জন্য আমরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি এখন হুমকির মুখে রয়েছে। জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে এই বাজরটি রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি কেএম নজরুল বলেন, বুধবারী বাজার এলাকায় কোন নৌকা লোড করতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, নদীতে মালিকানা নামে কেউ টাকা উত্তোলন করে সেটা আমার জানা নাই। এমনটি হলে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অতীতেও নদীতে কেউ অপরাধ করে ছাড় পায়নি এখনও পাবে না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে খেলার মাঠ, রাস্তা ও বাজার রক্ষায় অনেকে অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা সাথে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo