সোমবার, ২৬ Jul ২০২১, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

সরকারি নির্দেশনা :
করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে মাস্ক পরুন, নিরাপদ থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন। সৌজন্যে : SylhetLive24.com
আজকের গুরুত্বপূর্ণ যত খবর
সিলেটের আর্মি ক্যাম্পে আগুনের গুজব, গ্রেফতার ৭ ছাতকের ডায়না সুন্দরীর প্রেমের ফাঁদ, নিঃস্ব অর্ধশতাধিক প্রবাসী সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪২ জনের করোনা শনাক্ত সিলেট-৩ আসনের উপ-নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি কাস্টঘরের জল্লায় এবার চোখ পড়েছে ভূমিখেকো মনিন্দ্রে’র নবীগঞ্জে বিধি নিষেধ অমান্য করায় মামলা ও অর্থদন্ড সিলেটে চলছে কঠোর লকডাউন, জনশূন্য নগর সিলেটে করোনায় আরও ৮ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮৪ জন সিলেটে করোনা থেকে মুক্তির জন্য জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ২৩ জুলাই শুক্রবার থেকে দেশে ১৪ দিনের লকডাউন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জ্বরে ভুগছেন খালেদা জিয়া ঈদের দিনে সিলেটে করোনায় প্রাণ গেল ৫ জনের, সনাক্ত ৪৪৫ সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, মামলা হচ্ছে মাহমুদ চক্রের বিরুদ্ধে সিলেটে ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে করোনা, একদিনে ১২ জনের মৃত্যু সিলেটে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় ওষুধসহ আটক দুই এবারও ঈদগাহে ঈদের জামাতের আয়োজন হচ্ছে না সিলেট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের পাতা গায়েব, নেপথ্যে মাহমুদ চক্র ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর লকডাউন মৌলভীবাজারে ভারত থেকে আসা নারী-শিশুসহ ২১ জন রোহিঙ্গা আটক জাফলংয়ে ইয়াবার চালানসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
দোয়ারায় কেয়ারটেকার হত্যা, বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

দোয়ারায় কেয়ারটেকার হত্যা, বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ছাতক প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে আলোচিত কেয়ারটেকার আবদুস সালাম (৩৯) হত্যাকান্ডের সাড়ে সাত মাস অতিবাহিত হলেও মামলার প্রধান আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি। ফলে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় দিন কাটছে বাদি ও তার পরিবারের।

হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী যুক্তরাজ্যে বসবাস করায় দেশের পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না। কিন্তু হত্যা কান্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে মাথায় কালো ভেজ পরিহিত ৭ জনকে পুলিশ তাৎক্ষনিক আটক করেছিল।

পরবর্তীতে এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদেরকে সুনামগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এদের মধ্যে ১জন ছাড়া অন্য ৬জন আসামী জামিনে আছেন।

জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব নৈনগাঁও গ্রামের মৃত মমশ্বর আলীর ছেলে আবদুস সালাম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আবদুস সালাম ১২ বছর বয়স থেকে তিনি উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদে গোরেশপুর গ্রামের মৃত আবদুল খালিকের পুত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামরান আবদুল হাই এর বাড়িতে চাকুরী নেন।

তিনি প্রবাসীর জমি-জমা, বাড়ি-ঘর দেখাশুনার পাশাপাশি কৃষি কাজ ও গরু লালন-পালন করে আসছিলেন দীর্ঘ দুই যুগ ধরে। বিনিময়ে প্রবাসী তাকে প্রতিমাসে বেতনের টাকা দিতেন।

প্রায় ১২ বছর আগে ওই প্রবাসী তাকে বিয়ে করিয়েছিলেন। বিয়ে করে স্ত্রীকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন সালাম। তার আছে তিনটি সন্তান। আমিনা (১০), তাসলিমা (৬) ও ইব্রাহিম আলীর বয়ষ এখন (৪)।

গ্রামের আলী হোসেন মেম্বার গংদের সাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর মামলা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে অন্যদের ফাঁসাতে নিজের বাড়ির বিশ্বস্থ কেয়ারটেকার সালামকে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাজের কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে ধানক্ষেতে ফেলে রাখে।

ওইদিন রাতভর হত্যাকারীদের বিভিন্ন নাটকিয়তা শেষে পরদিন ১৭ নভেম্বর ভোর সকালে গ্রামের পশ্চিমের হাওরে আলী হোসেন মেম্বারের পাকা ধানক্ষেত থেকেই তারাই লাশের সন্ধান দেয়।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে এবং তাৎক্ষনিক ৭জন ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক সকলের মাথায় ছিল কালো ভেজ। ঐদিন নিহতের স্ত্রী লাভলী বেগম বাদি হয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামরান আবদুল হাইকে প্রধান আসামী করে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-০৯) দায়ের করেন।

এ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আটক ৭ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছিল। এদের মধ্যে প্রায় একমাস কারাভোগের পর জামিনে বেরিয়ে আসে গ্রামের অজুদ আলীর ছেলে সালমান হোসেন ও এমরান হোসেন। জুনে মাঝামাঝিতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান গ্রামের মৃত জফর আলীর ছেলে মোছদ আলী ও ইছাক আলীর ছেলে সোহেল মিয়া।

গত এক সপ্তাহ আগে মৃত জফর আলীর ছেলে জয়নাল আবেদীন ও অজুদ আলী সুনামগঞ্জ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এ মামলার আসামী, গ্রামের মৃত আরজদ আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম শুধু জেল হাজতে রয়েছেন।

এদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাদি কর্তৃক দোয়ারাবাজার থানা থেকে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটে স্থানান্তরিত করেছিলেন ঘটনার প্রায় মাস দেড়েক পর। বর্তমানে মামলাটি তাদের তদন্তাধীন আছে।

নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদি লাভলী বেগম জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তার স্বামী। তাকে হত্যা করার পর বাদে গোরেশপুর ছেড়ে তিন সন্তান নিয়ে তার স্বামীর বাড়ি দোয়ারাবাজার উপজেলার সদর ইউনিয়নের নৈনগাঁও গ্রামে বসবাস করে আসছেন। ভিটে আছে কিন্তু বসত ঘর নেই। তাই চাচা শশুর আজর আলীর সাথে জরাজীর্ণ ঘরে অনাহারে-অর্ধহারে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাকে। বর্তমানে তিনি সিলেটের একটি ক্লিনিকে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি আছেন। তিনি তার স্বামীকে নির্মমভাবে হত্যাকারীদের ফাঁসি চান। পাশাপাশি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামরান আবদুল হাইকে দেশে এনে স্বামী হত্যার বিচারের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিহত আবদুস সালামের চাচাতো ভাই হাফিজুর রহমান জানান, লাশ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে মাথায় কালো ভেজ পড়া ৭জন আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। এরা সকলই ছিল প্রবাসী কামরান আবদুল হাইর আত্মীয়-স্বজন ও সালাম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। বর্তমানে একজন ছাড়া অন্য সব আসামীরা জামিনে বেরিয়ে আসছে। এতে সুষ্ট বিচার প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় রয়েছেন।

যুক্তরাজ্য থেকে মামলার প্রধান আসামী, সালাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কামরান আবদুল হাইকে দেশে এনে সুষ্ট বিচারের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


sylhetlive24.com



© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo