মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ১২:২৮ অপরাহ্ন

দলের দুঃসময়ের ভ্যানগার্ড অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান

দলের দুঃসময়ের ভ্যানগার্ড অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


সৈয়দ বাপ্পী

সিলেটের রাজপথ কাঁপিয়েছেন তিনি। দলের দুঃসময়ে ধরেছিলেন হাল। ছিলেন জাতীয়তাবাদী দলের ভ্যানগার্ড। সিলেট বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের রাজনীতিতে রয়েছে তার অনেক কর্তৃত্ব। দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালী সময় বিলিয়ে দিয়েছেন। দলের জন্য নিজের সাধ্যমত অর্থও ব্যয় করেছেন। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে কাজ করেছেন অবিরাম। তার নির্দেশে হাজার-হাজার নেতা কর্মীরা আন্দোলন সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ত। তার অনুপেরনায় নেতাকর্মীরা আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন বাজি রেখেছিল, হয়েছিল গুলিবিদ্ধ। মামলা-হামলার শিকারও হয়েছেন সেইসব নেতা-কর্মীরা। এমনকি সমাজ-সংসার জীবন থেকেও ওরা হয়েছিল বিতাড়িত। দলের দুর্দিনে যারা নিজের জীবন বাজি রেখে মাঠে নেমেছিলো আজ তাদের চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্র বানানো হল। সেই ক্ষোভে দলের সকল পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বলছি জাতীয়তাবাদী দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে সিলেটের পরিচিত মুখ বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের কথা।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের স্থান না দিয়ে ‘সুবিধাবাদীদের স্থান’ দেয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মীবান্ধব এই নেতা। ১৮ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর মিরাবাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে দল ছাড়লেও অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। অতীতের মতো দেশ ও দশের জন্য কাজ করবেন।

জামান সিলেটের রাজনীতিতে এক পরিচিত নাম। পুরো নাম সামসুজ্জামান জামান। পেশায় একজন অ্যাডভোকেট। সিলেটের একটি জনপ্রিয় আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা ‘দৈনিক শ্যামল সিলেট’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি তিনি।

 

১৯৮৫ সালে ছাত্রদল দিয়ে তার ছাত্র রাজনীতি শুরু। তখন সিলেট বিএনপির সাথে যুবদলের শক্তিশালী অংশে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক ও ছাত্রদলের দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মূলত তাদের অনুপ্রেরণাতে এবয় শহীজ জিয়ার আদর্শকে ভালোবেসে তিনি ছাত্রদলে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে তরুণ বয়সে কাউন্সিল মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সামসুজ্জামান জামান সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়ে ছিলেন। এছাড়াও ১৯৯৯ সালে শাহাজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরন আন্দোলনে যুবদল, ছাত্রদলসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে সেই আন্দোলনে প্রতিরোধ গড়ে তোলেছিলেন এই নেতা। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে চার বার কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে। দল করার কারণে প্রতিপক্ষ তার ৪ বোনকে ঘরে রেখে আগুনও ধরিয়ে দিয়েছিলো। এরপরও প্রাণের সংগঠনকে ভালোবেসে আজবদি কাজ করেছেন।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

 

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সামসুজ্জামান জামান প্রবাসে ছিলেন। তখন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলন ও সংগ্রামের জন্য তিনি ছুটে আসেন সিলেটে। এরপর আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি এবং তার অনুসারীরা। ওই সময় তিনি একাই তার বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের পূর্বাংশে আন্দোলন চাঙ্গা করে তোলেন। এই কারণে তিনি মামলার পর মামলায় বিপর্যস্ত হন। ওই নির্বাচনের পর অর্ধশতাধিক মামলা হয় সামসুজ্জামান জামানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন থাকেন ঘরছাড়া। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার আগে যখন সিলেট সফর করেন তখন নিজের উপর হুলিয়া জারি অবস্থায় সিলেটে পৌঁছেই শোডাউন দেন সামসুজ্জামান জামান। তার শোডাউনের কারণে ওই দিন সিলেটের বিপুল সংখ্যক বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামেন। এরআগে বিএনপিসহ অঙ্গসগঠনের নেতাকর্মীদের খোঁজেই পাওয়া যায়নি। গণহত্যা দিবস ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ রাখার প্রতিবাদে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিল বের করেন জামান। এছাড়াও ইলিয়াস মুক্তি আন্দোলন ও বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবীর আন্দোলনেও ছিলেন সক্রিয়।

১৮ আগস্ট বুধবার তিনি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবরে লিখিত এক চিঠিতে তিনি এ পদত্যাগ করেন। এর আগে বুধবার রাতে দল থেকে পদত্যাগের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

সংবাদ সম্মেলনে কর্মীবান্ধব এই নেতা বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিতে যুক্ত হই। বিএনপির দুর্দিনে এই দলকে প্রতিষ্ঠা করতে জীবনের সোনালী সময় দিয়েছি। সাধ্যমত অর্থও ব্যয় করেছি। সীমাহীন প্রতিকূলতার মাঝে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করেছি। আমি কখনোই হালুয়া রুটির ভাগ নেইনি, কিংবা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করিনি। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ সেচ্ছাসেবক সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষিত হলো আমার মতামত ও পরামর্শ উপেক্ষা করে। সর্বোপরি যেসব সহযোদ্ধা আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন বাজি রেখেছিল, গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, এমনকি সমাজ-সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। তাদেরকে চরমভাবে উপেক্ষা করে উপহাসের পাত্রে পরিণত করা হলো।

সামসুজ্জামান জামান দলের মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন রাখেন- দলে নেতৃত্ব পেতে হলে যোগ্যতার মাপকাঠি কি? ত্যাগ স্বীকার করে যারা দলকে ভালবেসে তিল তিল করে বিনির্মাণ করেছেন তারা, নাকি লবিং-তদবির অথবা বিশেষ ব্যবস্থায় সবকিছু হাসিলকারীরাই।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা প্রায়শই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, রাষ্ট্রের কাছে ন্যায় ইনসাফের দাবি তুলেন, কিন্তু নিজের অন্তর আত্মাকে একবারও জিজ্ঞেস করে দেখবেন কি- আপনারা নিজেদের কর্মীদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন কি? আজকে সহযোদ্ধাদের প্রতি যে অন্যায় আচরণ প্রদর্শন করা হয়েছে অবশ্যই ‘প্রকৃতি’ এর প্রতিবিধান করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের ৩৬ বছর দলের জন্য সাদকা হিসেবে দান করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় অ্যাডভোকেট জামানের অনুসারীর অসংখ্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারাও বক্তব্যের সাথে সাথে স্লোগান দিয়ে একাত্তা পোষণ করেন। অবশ্য অ্যাডভোকেট জামান তার বক্তব্যে বলেন, তার এ সিদ্ধান্তের সাথে কেউ একমত হতে পারেন, আবার নাও হতে পারেন। কোন ভয় থেকে নয়, বরং নিজ ইচ্ছাতেই তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন লস্কর, ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মওদুদুল হক, আব্দুর রকিব তুহিন, প্রভাষক রায়হান উদ্দিন, ফয়েজ আহমদ দৌলতসহ অসংখ্য নেতাকর্মী।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo