বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০১:১২ অপরাহ্ন

দক্ষিণ সুরমায় সিসিকে’র পার্কের গ্রীল ভেঙে ভবন নির্মাণ

দক্ষিণ সুরমায় সিসিকে’র পার্কের গ্রীল ভেঙে ভবন নির্মাণ

sylhetlive24/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক

দক্ষিণ সুরমার চাঁদনীঘাট এলাকায় ক্বিন ব্রীজের পাশে সিসিকে’র পার্কের জমির সীমানার লোহার গ্রীল ভেঙে জমি দখল করে সিসিকের অনুমতি ছাড়া চলছে দু’তলা ভবন বাড়ি নির্মাণের কাজ। পার্কের লোহার গ্রীল ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ প্রকাশ্যে চললেও স্থানীয় কাউন্সিলর ও সিসিক কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কিছুই জানেন না। এদিকে- ভবন নির্মাতা জানিয়েছেন তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর এবং সিসিকের অনুমতি নিয়েই পার্কের লোহার গ্রীল কেটে দু’তলা ভবন নির্মাণ করছেন। তবে তিনি (অনুমতি) এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর পাড়ের এই ভূমিতে যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। যে-কারনে বড়ইকান্দি এলাকার ১নং রোডের রুটিওয়ালা বাড়ির সমছু মিয়ার ছেলে তাহের মিয়া ক্বিন ব্রীজের পাশে সিসিকে’র জমির সীমানার লোহার গ্রীল ভেঙে জমি দখল করে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও এই জমিতে সিসিকের অনুমতি ছাড়া দু’তলা ভবন নির্মাণ কাজ করাচ্ছেন। চলতি মাসে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে পার্কের জমির সীমানার লোহার গ্রীল ভেঙে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করান তাহের। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এই এলাকার নদীর পাড় দখল করে আরও কয়কটি বসতি ঘর নির্মাণের।

তাহের এই এলাকার একজন মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়ার বোর্ডের নিয়ন্ত্রক। সে ক্বিন ব্রীজ এলাকাকে অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছে। জুয়াড়িদের যাতায়াতের জন্য সে সিসিকের লোহার গ্রীলের সীমানা ভেঙেছে। তবে অদৃশ্য কারনে এতে নজর পড়ছে না সিসিক এবং প্রশাসনের।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুবক জানান, ক্বিন ব্রীজ এলাকায় ছিনতাই ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়িতে চুরি হয় জুয়ার টাকা যোগাড়ের জন্য। ক্বিন ব্রীজের ঠিক নিচে এবং নিচের কলোনিতে চলে জুয়াড়ী তাহেরর জুয়ার বোর্ড। প্রকাশ্যে চলে ভারতীয় তীর শিলং জুয়া, টিকটিকি ও জান্ডুমান্ডু জুয়া। সে এই এলাকায় জুয়ার সাথে মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ডও করে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনা করলেও তাহেরের জুয়ার বোর্ডে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান হয়না।

স্থানীয় দক্ষিণ সুরমার ক’জন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে সিলেটের আঞ্চলিক পত্রিকায়ও সাপ্তাহিক টাকা পাঠায়, যে কারণে তাহের এবং রত্নার বিরুদ্ধে কেউই কোনো কিছু লিখে না।

তাহের একাধিক বার গ্রেফতার হলেও, আইনের ফাঁকফোকরের মাধ্যমে বেরিয়ে আবার সে শুরু তার এসব অপকর্ম। তাহেরের বিরুদ্ধে সিলেটের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।

তাহেরের অপরাধের এই স্বর্গরাজ্যে দিনে এবং রাতে প্রকাশ্যে চলে একাদিক জুয়ার আসর। আর মাদক বিক্রি।

অপরদিকে তাহের মিয়া প্রতিবেদককে অর্থের লোভ দেখান এবং হুমকি দেন। তাহের মিয়া বলেন, এসব লিখলে আমার কিছুই হবে না। আমি এই এলাকার সিনিয়র সাংবাদিকদের এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মেনেজ করেই এসব করছি। এছাড়া সিসিক এবং স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুমতি নিয়ে লোহার গ্রীল ভেঙে যাতায়াতের জন্য রাস্তা নির্মাণ করেছি। এসব নিয়ে অযথা বারাবাড়ি করবেন না।

এ বিষয়ে সিসিকের প্যানেল মেয়র-১ ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস লিপন প্রবাসে থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি জানেন না সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান। তারা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo