বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ১২:৪৯ অপরাহ্ন

জৈন্তাপুরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাফেজ খুনের আসামিরা

জৈন্তাপুরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাফেজ খুনের আসামিরা

sylhetlive24/সিলেট লাইভ


সিলেট লাইভ ডেস্ক

ভাই হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে করেছেন সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৫ নং ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু ভাটপাড়া গ্রামের ছিফত উল্লাহর ছেলে মো. নূর উদ্দিন।

তাঁর অভিযোগ, ঘটনার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যা মামলার কোন আসামিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। উল্টো হত্যামামলার আসামিরা এখনও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বাদীপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার লাগিয়ে তাদের ফাঁসি দাবি করছে তারা।

শনিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন মো. নূর উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে মো. নূর উদ্দিন বলেন, গত ৩ এপ্রিল হেমু হাউদপাড়া গ্রামের লোকজন লামাশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের ক্রয়কৃত জায়গা জোরপূর্বক দখল করতে গেলে এ নিয়ে হরিপুর বাজারে দু’পক্ষের মধ্যে রাতভর উত্তেজনা ও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের মধ্যে চলা সংঘর্ষ নিরসনে মধ্যস্থতার জন্য একদল আলেম সেখানে যান। ওই দলের সাথে আমার ছোট ভাই মাদ্রাসাশিক্ষক হাফিজ মাওলানা সালেহ আহমদও ছিল।

বিষয়টি সালিশির মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিলে উত্তেজিত হয়ে হেমু হাউদপাড়া গ্রামের জাকারিয়া মাহমুদ ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে হত্যা করে। পবিত্র রমজান মাসে একজন কুরআনে হাফেজকে হত্যার ঘটনায় বৃহত্তর জৈন্তিয়াসহ পুরো সিলেটের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তিনি বলেন, এর আগে হেমু হাউদপাড়া গ্রামবাসীর হাতে তিনপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিব নির্মমভাবে খুন হন। ওই গ্রামের মানুষের কারণে এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে অশান্তি বিরাজ করছে। সরকারি জমি ও মানুষের ব্যক্তিগত জায়গা-জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশে এলাকায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এমনকি এলাকার উন্নয়ন কাজও তাদের জন্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। এত অপরাধ সংঘটিত করার পরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

মো. নূর উদ্দিন বলেন, ফতেহরপুর ইউনিয়নের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ সম্প্রতি ১০ শতক জায়গা ক্রয় করেন। গত ৩ এপ্রিল হেমু হাউদপাড়া গ্রামের লোকজন জাকারিয়া মাহমুদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এ জায়গা দখল করতে আসে। আব্দুর রশিদ দখলবাজদের বাধা দিলে তারা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত উত্তেজনা ও কয়েকদফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষকে শান্ত করতে বৃহত্তর জৈন্তিয়ার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। পরদিন ৪ এপ্রিল সকালের দিকে সংঘর্ষ থামাতে একদল আলেম ঘটনাস্থল হরিপুর বাজারে যান। এই দলের সাথে যান মাদরাসাশিক্ষক হাফিজ মাওলানা সালেহ আহমদ। হরিপুর বাজারের মাছ হাটির সামনে জাকারিয়া মাহমুদসহ ২৫/৩০ জনকে একত্রে দেখতে পেয়ে আমার ভাই সালেহ আহমদ সালিশির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব করা মাত্র জাকারিয়া মাহমুদ, রফিক আহমদ ও সুরুজ মিয়া আমার ভাইয়ের ওপর চড়াও হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তাদের সহযোগীদের হামলার নির্দেশ দেয়।

হামলার নির্দেশ পেয়ে তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে মারতে শুরু করে। এ সময় জাকারিয়া মাহমুদ, রফিক আহমদ, সুরুজ মিয়া, হেলাল উদ্দিন ও সবুর উদ্দিন তাদের সাথে থাকা দা, ছুলফি ও রামদা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথা, বুক, পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপাতে থাকে। তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী আতাউর রহমান পাখি মিয়া, জালাল উদ্দিন, ওলি উল্লাহ, তরিক উল্লাহ, ইয়াহিয়া মাহমুদ, হাছন আলী, শরিফ আহমদসহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা রোল, রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ভাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। হামলা থেকে আমার ভাইকে রক্ষার জন্য মাওলানা রফিক আহমদ এগিয়ে গেলে মুহিবুর রহমান, আহমদ আলী ও হোছন মিয়া তাকেও এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে।

খবর পেয়ে আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজন মিলে আমার ভাই সালেহ আহমদকে উদ্ধার করে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবগত হওয়ার পর ৭ এপ্রিল আমি বাদী হয়ে জাকারিয়া মাহমুদকে প্রধান আসামি করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২/১৩ জনকে আসামি করে জৈন্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্তু অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে বলতে হচ্ছে, এ পৈশাচিক হত্যাকা-ের কোনো আসামিকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি।

মো. নূর উদ্দিন আরও বলেন, হেমু হাউদপাড়া গ্রামের লোকজন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে ফতেহপুর ইউনিয়নের বাকি ৯টি গ্রামের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। তারা এ সকল গ্রামবাসীর ওপর বিনা কারণে অত্যাচার করে যাচ্ছে। এলাকায় তাদের বাহাদুরী ও ক্ষমতার দম্ভ দেখাতে গিয়ে খুনের নেশায় মেতে উঠেছে।

২০১০ সালে কৃষিকাজের জন্য সরকারি জমি লিজ আনেন তিনপাড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা। এ জায়গাটিও তারা দখলে নিতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তিনপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিবকে নির্মমভাবে খুন করে।

সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরির্দশন করে তলুহাওরে ইপিজেড স্থাপনে মেগা প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু হেমু হাউদপাড়া গ্রামের দাঙ্গাবাজদের বাধার কারণে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এটি স্থাপিত হলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো।

এত অপরাধ করেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বুক ফুলিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা হুঙ্কার দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে- ‘আমরা চেয়ারম্যান বানিয়েছি, আমাদেরকে কেউ কিছু করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গডফাদার খুনের মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়া মাহমুদ ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হক, স্থানীয় বাসিন্দা শামসুজ্জামান, নিজাম উদ্দিন ও রফিক আহমদ।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়া মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

৫ নম্বর ফতেহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, যেদিন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে সেদিন আমি, উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের লোকজনকে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেছি। সংঘর্ষের সময় একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় মামলা হওয়ায় বিষয়টি এখন আর আমাদের হাতে নেই। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo