শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন

জাফলং-পিয়াইন নৌপথের আতঙ্ক জামাই সুমন

জাফলং-পিয়াইন নৌপথের আতঙ্ক জামাই সুমন

sylhetlive24.com
লাল বৃত্তে ইমরান হোসেন সুমন।-ফাইল ছবি।


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেটের জাফলং-পিয়াইন নৌপথে জামাই সুমন এক আতঙ্ক। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি রাহাজানি ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ বিস্তর অভিযোগ স্থানীয় পাথর শ্রমিক ও এলাকাবাসীর। ইমরান হোসেন সুমন নামের ওই ব্যক্তি এলাকায় জামাই সুমন নামে অধিক পরিচিত।

তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং মেলার মাঠ এলাকার রুজু মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে সিলেট জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

জাফলং ও পিয়াইন নদীতে চলাচলকারী পাথর-বালুবাহী শত শত নৌকা ও বলগেট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়েও পাথর ও স্টোনক্রাশার মালিকদের কাছ থেকে বখরা আদায় তার ও তার চক্রের প্রধান কাজ। জাফলং ও পিয়াইন নদী এলাকার ছোট-বড় সব চাঁদাবাজ চক্রের নিয়ন্ত্রক সুমন।

ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন নিজেকে পাথর ব্যবসায়ী কাম সাংবাদিক পরিচয় দিলেও মূলত পাথর ও বালু মহালে চাঁদাবাজিই তার মূল পেশা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চাঁদাবাজির মাধ্যমে দৈনিক লাখ লাখ টাকা কামাই করে বর্তমানে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত শতকোটি টাকার মালিক এখন সুমন। এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরাত তার।

একটি সূত্র জানায়, সুমন টাকার জোরে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি পদও বাগিয়ে নিয়েছে। দুটি অনলাইন পোর্টাল, একটি টিভি চ্যানেল ও একটি ভূইফোঁড় দৈনিকের পরিচয়ই সুমনের চাঁদাবাজি ও বখরাবাজির প্রধান হাতিয়ার। মিডিয়াগুলোর পরিচয়েই স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়া কর্মীদের উপর প্রভাব বিস্তার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ সাংবাদিকতা তার কোন পেশাই নয়।

এ ব্যাপারে ইমরান হোসেন সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানান, ইমরান হোসেন সুমন আমাদের প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি। আমি একটু ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো।

তার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বিভিন্ন কর্মকান্ডের তথ্য রয়েছে সিলেট লাইভ কর্তৃপক্ষের কাছে।

সম্প্রতি, সিলেটের জাফলংয়ের বালু ও পাথরখেকো সিন্ডিকেটের ৬ সদস্যর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পরিবেশ ধ্বংসের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ মাসে ওই সিন্ডিকেট জাফলংয়ের পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোনে নির্বিচারে প্রায় ২০ কোটি টাকার বালু লুট ধরে পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আসামি করা হয়েছে; গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং মেলার মাঠ এলাকার রুজু মিয়ার ছেলে ইমরান হোসেন সুমন, বিশ্বনাথের তেঘরী গ্রামের বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম, কান্দুবস্তি গ্রামের ফিরোজ আহমদ, আসামপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলাম, লেঙ্গুরা এলাকার মুজিব ও লামা দুমকা গ্রামের সুভাস দাস।

মামলার এজাহারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী জানিয়েছেন- জাফলং ব্রিজ সংলগ্ন ১৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বা ইসিএ জোন হিসেবে চিহ্নিত।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo