শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন

জাফলংয়ে ২০ কোটি টাকার বালু লুট : মন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

জাফলংয়ে ২০ কোটি টাকার বালু লুট : মন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
লাল বক্সে উপরে বা থেকে সুভাষ, সুমন, ফয়জুল ও মুজিবুরের ফাইল ছবি।


বিশেষ প্রতিবেদক

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে ‘নিষিদ্ধ জোন’ থেকে অবাধে চলছে বালু লুট। বালুখেকোরা বোমা ও ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু লোপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে অনেক এলাকা। অবৈধ বোমা মেশিনের শব্দে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

মাঝে-মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও তা কাজে আসছে না বলে দাবি স্থানীয়দরে। বালুখেকোদের এমন তান্ডব থেকে পর্যটন কেন্দ্র জাফলংকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

মঙ্গলবার গায়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে পাথর ও বালুখেকো ফয়জুল গংদের নেতৃত্বে নির্বিচারে বালু ও পাথর লুটপাট হচ্ছে জানিয়ে তা বন্ধে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন নয়াবস্তি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মুতলিব।

স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, পাথরখেকো চক্রের মুল হোতা ফয়জুল ইসলাম ওরফে বিশ্বনাথী ফয়জুল, সুভাস দাস, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান পরিবারের জামাই ইমরান হোসেন সুমন ওরফে জামাই সুমন মিলে এবার জাফলংকে ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় মেতে উঠেছেন। তারা গত চার মাসে অন্তত ২০ কোটি টাকার বালু লুট করেছেন বলে দাবি করেন আব্দুল মতলিব।

স্মারকলিপিতে তিনি জানান, জাফলংয়ের নয়াবস্তি গ্রামের আলিম উদ্দিন স্মারকলিপি দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছিলেন। এছাড়া সিলেটের দুটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পাথর ও বালু লুটপাট বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। এরপরও ওই বালুখেকো চক্র বাংলাবাজার থেকে পাচঁসেওতি এলাকা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় নির্বিচারে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

এছাড়া স্থানীয় বিট পুলিশের সহযোগিতায় রাতের আঁধারে জাফলং ইসিএ জোন এলাকা থেকে কুখ্যাত পাথরখেকো সিন্ডিকেটের মূলহোতা ফয়জুল ইসলাম ওরফে বিশ্বনাথী ফয়জুলের নেতৃত্বে সুভাস, মুজিব ও সুমন বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন।

স্মারকলিপিতে তিনি আরও জানান, ছাতকের আলাউদ্দিন ও বিশ্বনাথের ফয়জুল সিলেট জেলার কুখ্যাত ও বালু পাথরখেকো চক্র। ওরা পরিবেশ বিনষ্টকারী।

প্রায় ১০ বছর আগে তারা কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে যন্ত্রদানব বোমা মেশিন দিয়ে পাথর লুটপাট করতে চেয়েছিল। ওইসময় ভোলাগঞ্জের সচেতন মানুষ তাদের কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে তাড়িয়ে দিলে বোমা মেশিন নিয়ে তারা জাফলংয়ে এসে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের ‘অঘোষিত শাসক’ হয়ে গেছে ফয়জুল ইসলাম ওরফে বিশ্বনাথী ফয়জুল।

তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারনেই এখন জাফলংয়ে অশান্তি বিরাজ করছে। জাফলং-বাংলাবাজার হয়ে পাচঁসেওতী বাজার পর্যন্ত এবার যে বালু লুটপাট করা হয়েছে তার নেপথ্যের নায়ক বিশ্বনাথী ফয়জুল।

তিনি জানান, এলাকার এমপি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন নয়াবস্তি গ্রামের আলীম উদ্দিন ও তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী। মন্ত্রী নিজেও জাফলংয়ে অবৈধ বালু ও পাথর লুটপাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু গোয়াইনঘাটের প্রশাসনের তরফ থেকে এ ব্যাপারে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বরং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা পাথর ও বালুখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সোমবার রাত থেকে জাফলংয়ের ইসিএ জোন এলাকায় ফের বালু লুটপাট চালানো হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করেন আব্দুল মতলিব।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo