শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:৫১ অপরাহ্ন

জাফলংয়ে বন বিট কর্মকর্তা রাজুর অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য

জাফলংয়ে বন বিট কর্মকর্তা রাজুর অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক

গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘোষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সিলেটের আঞ্চলিক পত্রিকার জৈন্তাবার্ত’র ইউটুব চ্যানেলে একটি সচিত্র প্রতিবেদন নিয়ে সিলেটজুড়ে চলছে তোলপার।

অনুসন্ধানে সমাজিক বনায়নের কাজের নামে টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের জমি ও টিলা কেটে পাথর উত্তোলন, জায়গা দখল দেওয়া ও ভাড়া দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ চাঞ্জল্যকর এসব দুর্নীতির তথ্য ভেসে উঠে বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে।

তার এসব অপর্কমের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীও করা হয়। বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু তার এসব অপকর্ম করতে এলাকায় তৈলী করেছেন নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী।

সূত্রে জানা গেছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের, নলজুরী, শান্তিনগর, সোনাটিলা, মোহাম্মদপুর, রহমতপুর কানাইজুরী, তামাবিল এলাকায় রয়েছে বন বিভাগের কয়েক হাজার একর জমি।

সূত্র জানায়, রাজুর অদৃশ্য ইশারায় সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের দুই পাশে বন বিভাগের অনেক জমি এখন বেদখল। বন বিভাগের এসকল জমিতে গড়ে উঠেছে স্টোন ক্রাশার মেশিন এবং পাথর-কয়লার রাখার ডাম্পিং ইয়ার্ড। অবশ্য এজন্য তিনি মোটা অংকে একটি টাকাও পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

সূত্র আরো জানায়, বন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর সারী রেঞ্জের অধিনে জাফলং বিট অফিসে যোগদানের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভালো সাজতে তামাবিল ও মোহাম্মদপুরের কিছু জায়াগা উদ্ধার করেন এবং কিছু অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করেন। তবে উচ্ছেদের পর থেকে শুরু হয় তার অবৈধ ভাড়া বানিজ্য।

তিনি সোনাটিলা মৌজায় প্রায় পনের-বিশ একর জমি প্রতি শতক বার্ষিক পনেরো হাজার টাকা হিসেবে পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া প্রদান করেছেন। এছাড়াও টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের মোহাম্মদপুরের জায়গায় তিনি কয়েকটি স্টোন ক্রাশার বসানোর সুযোগও করে দেন।

রাজু তার এলাকায় গড়ে তোলেন একটি নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। এই বাহিনীর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে রাতের আধারে গাছ কেটে তামাবিল রাস্তা হতে প্রায় পাঁচ’শ গজ ভেতরে পাথর রাখার ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করে দেন।

সরেজমিনে কানাইজুরি, নলজুরি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন বিভাগের জমি উজার করে টিলা কেটে পাথর উত্তোলণ করছে তার নিজস্ব বাহিনী। এসব পাথরের প্রতি গাড়ি ও ট্রলি হতে পাচ’শ হতে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত তিনি চাঁদা আদায় করেন।

ইতোমধ্যে সংরক্ষিত এই বন এলাকায় অনেক বসতিও গড়ে উঠেছে। এদেরকে উচ্ছেদ না করে তিনি প্রতিটি স্থাপনা ও বাড়ী থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন। কেউ মাসোহারা না দিলে তাকে মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়। লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে তাদের উপর হামলা করা হয়। শুধু তাই নয় হামলার শিকার অসহায় পরিবারকে দু একদিন পর গাছ কাটার মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।

এই কর্মকর্তার ভয়ে কেউ মুখ খোলতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ আছে জাফলংয়ের বেশির ভাগ মানুষই বন বিভাগের দায়েরকৃত ২৫-৩০টি মামলার আসামী হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু এসব অপকর্মের মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। আজ তিনি কয়েক শ’ কোটি টাকার মালিক হয়েছে। নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি তিনি নিজের জন্য প্রায় আট লাখ টাকা মুল্যে একটি প্রাইভেট কার কিনেছেন। তার এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী এলাকাবাসী।

এদিকে- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সিলেটের আঞ্চলিক পত্রিকার জৈন্তাবার্ত’র ইউটুব চ্যানেলে একটি সচিত্র প্রতিবেদনে জহিরুল ইসলাম রাজু’র ভিডিও ক্লিপে শোনা যায়, আমি এই বিটে থাকাবস্থায় সাংবাদিক, পুলিশ, ডিজিএফআই, সিআইডিকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করি। সর্বশেষ গত রমজান মাসে আয়নুল ও কবির মিলে মাইটিভি’র সাংবাদিককে নিয়ে আসে, তখন নিজে না খেয়ে লাখ টাকা দিয়ে তাদের ম্যানেজ করি।

এ বিষয়ে জাফলং বন বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম রাজু’র মোবাইলে কল করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদ উদ্দিন জানান, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাননি। তিনি বিট কর্মকর্তার স্বীকারোক্তি মূলক বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেখেননি। ভিডিওটি পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo