বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ১০:১৫ অপরাহ্ন

জাফলংয়ে পর্যটকদের উপর হামলা : ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নীরব, গ্রেফতার ৫

জাফলংয়ে পর্যটকদের উপর হামলা : ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নীরব, গ্রেফতার ৫

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ/জাফলংয়ে পর্যটকদের উপর হামলা : ট্যুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা নীরব, গ্রেফতার ৫


নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে পর্যটকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৫ স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাফলংয়ের সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রবেশ কাউন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্যুরিস্ট পুলিশ বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে। ক’জন পর্যটক এই হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরেন। মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এ সময় নীল রঙের স্বেচ্ছাসেবক লেখা ইউনিফর্ম পরিহিত যুবকটি পর্যটকদের লাঠী দিয়ে বেধরক পেটায়। তাদের হাত থেকে বাঁচাতে যুবতী ও নারী এগিয়ে এল তারাও রেহাই পাননি। ওরা নারীদের উপরও আক্রমন করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় ট্যুরিস্ট পুলিশ ছিলেন নীরব ভূমিকায়। তারা দেখেও ঘটনাস্থলে আসেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হলে তারা সেখানে আসে। পর্যটকরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জাফলংয়ে পর্যটকদের জিম্মি করে সুযোগ বুঝে স্বেচ্ছাসেবকরা টাকা হাতিয়ে নেয়। এর একটি অংশ ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে যায়। যে-কারণে তারা অনেক সময় নীরব ভূমিকা পালন করে।

এ ঘটনায় ২ নারীসহ ৫ জন পর্যটক আহত হন। তারা হলেন, ঢাকার শ্যামপুরের জুরাইন এলাকার বাসিন্দা সম্রাট ও তার মা ঝর্ণা রাণী, সুমন সরকার ও তার বাবা সনাতন সরকার এবং সুমন সরকারের ভাগনি অথৈ।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল জানান, এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, কাউন্টার কর্মী ও গোয়াইনঘাট উপজেলার পূর্ণা গ্রামের রাখাল চন্দ্র দাসের ছেলে লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস ও ইসলামপুর রাধানগরের বাবুল মিয়ার ছেলে সেলিম আহমেদ, একই এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে জয়নাল আবেদীন, নয়াবস্তি গ্রামের ইউসুফ মিয়ার ছেলে সোহেল রানা এবং পশ্চিম কালী নগর গ্রামের আব্দুল কাদিরের ছেলে নাজিম উদ্দিন।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকার শ্যামপুরের জুরাইন এলাকা থেকে সুমন ও তার আত্মীয় স্বজন মিলে ১২ জন পর্যটক জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন। দুপুরের দিকে তারা জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় যাওয়ার জন্য সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রবেশ মুখের কাউন্টারের সামনে যান। এ সময় কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মীরা তাদের কাছে প্রবেশ ফি বাবদ ১০ টাকা করে দাবী করে। তখন তারা টাকা দিতে খানিকটা কালক্ষেপণ করলে কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম ও লক্ষণসহ কয়েকজন মিলে তাদেরকে লাঠি দিয়ে বেধরক মারপিট করে। এ সময় সম্রাট ও তার মা এবং সুমন ও তার বাবা এবং ভাগনিসহ ৫ জন পর্যটক আহত হন।

গোয়াইনঘাটের ইউএনও মো. তাহমিলুর রহমান জানান,

পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ ফি নিয়ে পর্যটক এবং কাউন্টার কর্মীদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটে গেছে। যা খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় জড়িত কাউন্টার কর্মীদের তাৎক্ষণিক ভাবে বরখাস্ত এবং থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগেও গত ২৫ মার্চ কলেজ শিক্ষার্থী সাজ্জাদ, সৈকত তালুকদার ও ফয়সালসহ ঢাকা থেকে ৪০ জনের একটি পর্যটকদল জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন । বিকেলের দিকে তারা জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় যাওয়ার জন্য সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন প্রবেশ মুখের কাউন্টারের সামনে যান। এ সময় কাউন্টারে দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে প্রবেশ ফি নিয়ে কাউন্টার কর্মী এবং পর্যটকদের মাঝে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। যা একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনায় রূপ নেয়। ওই ঘটনায় পর্যটক এবং কাউন্টার কর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হন। পরে গোয়াইনঘাটের ইউএনও মো. তাহমিলুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পর্যটকদের কাছ থেকে ১০টাকা করে প্রবেশ ফি আদায়ের কার্যক্রম শুরু করে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন। জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন এই কার্যক্রমের তদারকি করে আসছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo