শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:১৮ অপরাহ্ন

ছাতক পৌর কাউন্সিলর তাপসসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা

ছাতক পৌর কাউন্সিলর তাপসসহ ৭৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


ছাতক প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ছাতকে বালু খেকো কর্তৃক নৌ-পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তাপস চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে এ মামলা (নং-৩(০৬)২০২১) দায়ের করেন। মামলায় ২৬ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৫০জনকে আসামিকিরা হয়েছে।

এদিকে, এই মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লম্বাকান্দি গ্রামের রজু মিয়ার ছেলে ও মামলার ৬ নাম্বর আসামি শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ওইদিন বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ছাতক থানায় হস্তান্তর করে।

অপরদিকে, হামলায় গুরুতর আহত ছাতক নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মঞ্জুর আলমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার ছাতক হাসপাতাল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে, নৌ-পুলিশের উপ-পরিদর্শক ও মামলার বাদি হাবিবুর রহমান এবং নৌ-পুলিশের কনস্টেবল সৈকত কুমার ছাতক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

নৌ-পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর আসামীদের ধরতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। পুলিশের কঠোর তৎপরতা আঁচ করতে পেরে আসামীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের চেলা নদীর পাশে নিয়ামতপুর এলাকার বন বিভাগের জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করে আসছিল এলাকার একটি বালু খেকো চক্র। এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করে ছাতক বন বিভাগ। এসব অভিযোগ ছাড়াও প্রতিদিনের মতো ৪ জুলাই বিকেলে নৌকা যোগে টহল দিচ্ছিলেন নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মঞ্জুর আলমসহ ৬ পুলিশ সদস্য। একপর্যায়ে চেলা নদীর পাশে নিয়ামতপুর এলাকায় বন বিভাগের জায়গা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পরে জব্দ তালিকা তৈরি করে ফেরাত পথে পুলিশের উপর হামলা চালায় বালু খেকোরা। এতে নৌ-পুলিশের ইনচার্জসহ নৌকায় থাকা ৬ পুলিশ আহত হয়। হামলাকারীরা তাদের বেদম প্রহার করে মোবাইল, হ্যান্ডকাফসহ পুলিশের সব কিছু কেড়ে নেয়। এসময় পুলিশের নৌকাটিও পানিতে তলিয়ে দেয়। পরে পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে নদীতে পড়ে সাতার কেটে আশ্রয় নেয় একজন সেনা সদস্যের বাড়িতে। রাতে আহতদের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ছাতক থানার উপ-পরিদর্শক রকিবুল ইসলাম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শাহাদাত নামের মামলার ৬ নাম্বর এক আসামিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে ছাতক থানায় হস্তান্তর করেছে। মামলার প্রধান আসামি কাউন্সিলর তাপসসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY SYLHET-LIVE-24
ThemesBazar-Jowfhowo