বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০২:০৭ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোরা বেপরোয়া, হুমকির মুখে নদীর তীরবর্তী গ্রাম

গোয়াইনঘাটে বালুখেকোরা বেপরোয়া, হুমকির মুখে নদীর তীরবর্তী গ্রাম

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ
ফাইল ছবি : ইনসেটে রুপক।


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালুখেকোরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা রাতের আধাঁরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। সরকার ঘোষিত প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এসব এলাকায় জোরপূর্বক ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বড়ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো। বালু উত্তোলনে নদীদে প্রায় ৪ হাজারটি বালুবাহী বলগেট নৌকা বর্তমানে অবস্থান করলও প্রশাসন সেদিকে খেয়ালই দিচ্ছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন তান্ডব চললেও এ ব্যাপারে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছেন তারা। অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা থাকায় গোয়াইনঘাটে বালুখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ যেনো উপজেলার পিয়াইন, লাঠি, জাফলং জিরো পয়েন্ট, বিছনাকান্দি নদীতে মহাউৎসব চলছে বালু উত্তোলনের!

বালুখেকোরা রাত ১২টা বাজার সাথে সাথে রাতের আধাঁরে এসকল প্রতিটি স্পটে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বালু লুটপাট করে চলছে। বালু উত্তোলনকারী বালুখেকোদের কারনে এসব এলাকার পরিবেশ হচ্ছে বিনষ্ট। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন বালু উত্তোলন কারণে যখন তখন নদী তীরবর্তী গ্রাম তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রভাবশালী মহল হওয়ার তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউই প্রতিবাদ করতে চায় না। নীরবে তা সহ্য করতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামবাসীরা জানান, লাঠি গ্রামের নদীতে লাঠি উত্তর মাইন্জু মিয়ার ছেলে স্বপন ও আরিফ উল্লাহ্ ছেলে সিদ্দেক উল্লাহ্, ফেনাইকুনায় আব্দুল মালিকের ছেলে ফয়েজ উদ্দিন, ইরন মিয়ার ছেলে মইয়ুর আহমদ, বাবুল মেম্বারের ছেলে জাকারিয়া এবং কিবরিয়া প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

তারা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্যকে ম্যানেজ করে এলাকার চিহ্নিত বালুখোকোরা বালু উত্তোলন করছে।

আহার কান্দি বাজারের পূর্বে শরমিকলীগ নেতা শাহীন ও রুপক নেতৃত্বে আহারকান্দির নদীর বীজ্রের পূর্ব সাইডে বাজারের পূর্বে হাবিবুল্লাহর ছেলে আজিম উদ্দিন ও আব্দুল মতিনের ছেলে রমজান আলী, আব্দুল মতিনের ছেলে ফারুক আহমদ এবং পশ্চিম সাইডে আমবাড়ির আহমদ আলীর ৪ ছেলে দেলোয়ার হোসেন, স্বপন আহমদ, খোকন আহমদ ও আবুল হোসেন এবং কিবরিয়া, নুমান, আবদুর নুর প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

হাইডরে জহির উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গির আলম, দুয়ারীখেল হাওরে হাসন আলীর ছেলে জুনাব আলী ও হুনা মিয়া, আব্দুল হাসিমের ছেলে মাসুক আহমদ, পশ্চিম জাফলং উনিয়নের ৫,৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে পিয়ান নদী ও কঞ্চর কাড়া বিএনপি নেতা দেলোয়ারের নেতৃত্বে প্রতি রাতে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, প্রতিটি স্পটে ২০/২৫ টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন সতীশ দেবনাথ ঝন্টু।

স্থানীয় মুরব্বীরা জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে এসব এলাকায় বালুখেকো ও গ্রামবাসীদের মধ্যে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হতে পারে বলে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই এলাকার স্থানীয় একজন শিক্ষক জানান- অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে সিলেট শহরের এবং স্থানীয় সরকার দলের অনেক সদস্য প্রতিদিন মোটা অংকের টাকা পান। অবৈধ এই কার্যকলাপে প্রশাসন নাম ভাঙ্গান গোয়াইনঘাট রুপক। রুপক কেয়ারী থেকে পাথর ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। কিছুদিন পূর্বে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় লাটি গ্রামের মৌলানা জামাল আহমদকে রুপক, রমজান সহ বালুখেকোরা তাকে মারধর করে। পরে মৌলানা জামাল আহমদ সিলেট পুলিশ সুপার বরাবরে একটি আবেদন করায় কিছুদিন বন্ধ বালু উত্তোলণ বন্ধ ছিলো। কিছুদিন বন্ধ হবার পর আবারও এই কর্মজজ্ঞ শুরু হয়েছে। আমরা প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দৃষ্টি কামনা করছি ।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo