মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ১২:১৫ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গোয়াইনঘাটে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

sylhetlive24.com


নিজস্ব প্রতিবেদক

গোয়াইনঘাট উপজেলার পরগনাবাজার স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসাইনের বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ২০০২ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যবদি তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন৷ তবে এই বিদ্যালয়ের কোন আয় ব্যয়ের হিসাব তিনি অদ্যাবধি দিতে পারেননি। স্খানীয়দের অভিযোগ- বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সভাপতিসহ কয়েকজনকে ম্যানেজ করে তিনি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে জুনিয়র এমপিও অর্ন্তভূক্ত করে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। অথচ এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি (ফারুক হোসাইন) এমপিও এর নাম করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিষয়টি এলাকার সচেতন মহল মেনে নিতে পারেননি, যার ফলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ভেঙ্গে আরো একটি নতুন কমিটি করা হয়।

সেই নতুন কমিটি বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় হিসাব চাইলে প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসাইন টাল বাহানা শুরু করেন। পরে নতুন কমিটি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ২ সদস্যের একটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়। অডিট কমিটি যথা নিয়মে তার কাছে হিসাব চাইলে বিদ্যালয়ের আয় ব্যয় হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং মনগড়া হিসাব প্রদান করেন। অডিট কমিটি তাদের তদন্তে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার অনিয়ম পান৷

এদিকে- এলাকাবাসীর অভিযোগ ফারুক হোসাইন বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত থাকেন না। তার ইচ্ছে মত কখনও ১২ টায় আবার কোন কোন দিন দুপুর ১টায় বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন।

এলাকাবাসী আরো অভিযোগ করেন, বিগত ২০১৯ সালে সিনিয়র এমপিও ভূক্ত করে দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, একই কায়দায় তিনি পূর্বের মত (এমপিও ভূক্ত) করার নাম করে আরো ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করেন।

সেই সময় এলাকার সচেতন মহল ক্ষুদ্ধ হয়ে ২০১৯ সালে সাধারণ সভার আয়োজন করেন। ওই সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফারুক হোসাইন বিদ্যালয় একাউন্টে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিবেন বলে স্বীকার করেন। তবে আজ অবদি বিদ্যায়ল একাউন্টে কোন টাকা জমা করেননি তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসাইন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে, ভুল হিসাব প্রদান করে বলেন যে বিদ্যালয়ের ঋণ আছে৷

এদিকে- বিদ্যালয়ের দেনা ৬ ছয় লক্ষ টাকা পরিশোধ করবেন বলে দাতা সদস্য করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিটির আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং অবিভাবক সদস্য ব্যতিরেকে ফারুক হোসাইন এর মা ও সহধর্মিণী কে নতুন দাতা সদস্য করার জন্য রেজুলেশন ও করেন৷ কিন্তু বিদ্যালয়ের একাউন্ট চেক করলে দেখায় যায় কোন টাকা জমা হয়নি! তিনি বিদ্যালয়ের একাউন্টে টাকা জমা না দিয়ে রেজুলেশন করেন।

এলাকাবাসী দাবি করেন এভাবেই বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের টাকা আত্ম্যসাত করে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসাইন৷ এসব নিয়ে এলাকার সচেতন মহল কথা বললে কোন পাত্তাও দিচ্ছেন না বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক। যার ফলে এলাকার জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে৷

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আতিকুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্দুস ছালাম ও অবিভাবক সদস্য বাবুল আহমদ।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ফারুক হোসাইন বলেন, প্রথম জুনিয়র এমপিও এর সময় (২০১৩) সালে তিনি শিক্ষা মন্রনালয়ের এক কর্মকর্তাকে সাড়ে চার লক্ষ টাকা দিয়েছেন যা পরবর্তীতে এলাকার মুরব্বীয়ানগণকে অবহিত করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে যে সমস্থ টাকা আত্মসাথের অভিযোগ আনা হয়েছে তার হিসাব তিনি এলাকাবাসীকে দিয়ে দিয়েছেন।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo