মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

নির্যাতন মামলায় নিউ শেরাটন হোটেলের মালিক সুজন জেল হাজতে

নির্যাতন মামলায় নিউ শেরাটন হোটেলের মালিক সুজন জেল হাজতে

sylhetlive24.com


সিলেট লাইভ ডেস্ক

সিলেট সদর উপজেলার ইসলামপুরে গৃহবধূ এক কলেজ ছাত্রীকে নির্যাতন, প্রতারণা ও যৌতুক মামলায় আম্বরখানা হোটেল নিউ শেরাটনের মালিক সুজন আহমদ নামের এক ব্যক্তিকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের এই নির্দেশ দেন। সুজন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাও গ্রামের মৃত সোনাফর আলী ছেলে।

গত ১৭ জানুয়ারি সিলেট শহরতলীর মেজরটিলা সৈয়দপুরের এক কলেজ ছাত্রী শাহপরান থানায় এই মামলা দায়ের করেন। যার নং-২০। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ১১(গ)/৩০ রুজু হয়।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাও গ্রামের মৃত সোনাফর আলী ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামের আরফান আলীর ছেলে শাহনুর মিয়া, ছাতক উপজেলার বনগাও গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আবুল কালাম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ইসলামপুরের সৈয়দপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে বিয়ে করে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক থানার বনগাও গ্রামের মৃত সোনাফর আলী ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রিপন। গ্রেফতারকৃত সুজন আহমদ হলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে রিপনের বড় ভাই। রিপন ঐ কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের পর থেকে একাধিক বার যৌতুক আদায় করেও ক্ষান্ত হয়নি রিপন ও সুজন। নিজের সুখের কথা চিন্তা করে ঐ কলেজ ছাত্রী রিপন ও সুজনের হাতে যৌতুকের ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন। তার স্ত্রী ঐ কলেজ ছাত্রীর অনুমতি ছাড়া গত কয়েকদিন আগে আরেকটি বিয়ে করেছে রিপন।

বিয়ের নামে অভিনব প্রতারণা করে টাকা আদায় করা রিপনের পেশা। আর সুজনের সহযোগিতায় রিপন একের পর এক বিয়ে করে মেয়েদের সর্বনাশ করছে। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি আবারো রিপন ও সুজন যৌতুকের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পূণরায় দাবি করে ঐ কলেজ ছাত্রীর কাছে। এসময় ঐ কলেজ ছাত্রী যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাথারিভাবে মারধর করতে থাকে রিপন। পরে ঐ কলেজ ছাত্রীর আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সুজন ও রিপন পালিয়ে যায়। পরে তাকে সিলেটে এম.এ.জি ওসামনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়।

এই ঘটনায় শাহপরান থানায় অভিযোগ করেন ঐ কলেজ ছাত্রী। এ ঘটনায় গত ১৭ জানুয়ারি শাহপরান থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রিপনের বড় ভাই সুজনকে এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা পর্যটন মোটেল রোডের ৫ম তলা বিল্ডিং এর ৩য় তলা আল্লাহু বিল্ডিং থেকে আটক করে শাহপরান থানা পুলিশ।

পরে ১৮ জানুয়ারি আসামী সুজনকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় অপর আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রতারক রিপনকে আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং বাকিরা এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo