মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে পাথর লুটপাটে ‘অক্সিজেন মাস্ক’, শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকি

কোম্পানীগঞ্জে পাথর লুটপাটে ‘অক্সিজেন মাস্ক’, শ্রমিকদের মৃত্যুর ঝুঁকি

sylhetlive24.com


বিশেষ প্রতিবেদক

কোম্পানীগঞ্জের কোয়ারিতে বিশেষ কায়দায় চলছে পাথর উত্তোলনের মচ্ছব। নৌকায় অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাথে লম্বা প্লাস্টিকের পাইপ। ব্যাস হয়ে গেল ‘অক্সিজেন মাস্ক’। এটা পাথর খেকোদের নতুন পদ্ধতি, নামো দিয়েছে ‘অক্সিজেন মাস্ক’। এই ‘অক্সিজেন মাস্ক’ মুখে লাগিয়ে কোয়ারির পানির তলদেশে চলে যায় শ্রমিকরা। এরপর বিশেষ কায়দায় জালে ভরে দেয় পাথর। নৌকায় থাকা সহযোগীরা সেই জাল দিয়ে টেনে তোলে পাথর। এতে যেমন ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি পাথর চাপায়ও শ্রমিকদের রয়েছে মৃত্যুর আশঙ্কা!

বর্তমানে এই এলাকার পাথর খেকোদের কাছে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ, ‘অক্সিজেন মাস্ক’ পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোয়ারির পানির তলদেশ থেকে পাথর উত্তোলন করা যাচ্ছে। এই বিষয়টি কেউই টের পাচ্ছে না।

দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি সিলেটের কোম্পনীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ। পরিবেশ ধ্বংস ও শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল শুরু হওয়ার কারণে কয়েক বছর ধরে ওই কোয়ারিতে সম্পূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে পাথর খেকোরা ভিন্ন ভিন্ন পথ আবিষ্কার করে পাথর লুটপাট চালাচ্ছে।

স্থানীয় কলাবাড়ি গ্রামের শাহাবউদ্দিন ও আলিম উদ্দিন হচ্ছে (অক্সিজেন মাস্ক) অক্সিজেন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের আবিষ্কারক। প্রায় এক মাস আগে তারা পরীক্ষামূলক ৪-৫টি অক্সিজেন মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের চেষ্টা চালান। সেই চেষ্টা সফলও হন তারা। সফলের পর এখন তাদের নেতৃত্বে ১১০টির মতো ‘অক্সিজেন মাস্ক’ লাগিয়ে প্রশাসনের চোখের আড়ালে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

সূত্র জানিয়েছেন, মৌসুম শেষ হওয়ার পরও ইজারাদাররা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদী ও আশপাশ এলাকায় বালু লুটপাট করেছে। তবে সেখানে বালুর নামে লুটপাট করা হচ্ছে পাথর!

প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ’ নৌকা পাথর ইজারাদাররা লুটপাট করে নিচ্ছে। আর এসব নৌকা থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ও করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে এই টাকা থেকে পুলিশের নামে ৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।

ইজারাদারদের সীমানার বাইরে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ লাগিয়ে পাথর লুটপাট চালাচ্ছে কলাবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে শাহাবউদ্দিন ও মৃত আব্দুল বারী ওরফে মঙ্গাইয়ের ছেলে আলাউদ্দিন।

তাদের নেতৃত্বে ভোলাগঞ্জ কোয়ারি ও আশপাশ এলাকায় প্রায় ৫শ’ শ্রমিক রয়েছে। এসব শ্রমিকরা পালাক্রমে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ পরে বিশেষ কায়দায় পাথর তুলে আনছে।

স্থানীয় কলাবাড়িসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, মুখে বিশেষ ধরনের ‘অক্সিজেন মাস্ক’ পরে পাথরখেকোরা প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ নৌকায় পাথর লুটপাট করে চলছে। এসব নৌকা থেকে আলাউদ্দিনের লোকজন প্রশাসনসহ আলাউদ্দিনের নামে ৬০০ টাকা হারে চাঁদাবাজি করছে।

এদিকে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ দিয়ে উত্তোলিত পাথর নৌকা দিয়ে নিয়ে আসা হয় ভোলাগঞ্জের ১০ নম্বর, সুজনের বাড়ি ও লিলাইবাজার এলাকায়। সেখান থেকে ট্রাকযোগে সেগুলো স্টোনক্রাশার মিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আর ইজারাদারদের পক্ষে বালু তোলার নামে উত্তোলিত পাথর নিয়ে আসা হয় ধলাই ব্রিজের কাছে। সেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় বালু ফের নদীতে ফেলে দিয়ে পাথরগুলো ট্রাকে করে স্টোনক্রাশার মিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, যারা মুখে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ পরে কোয়ারির পানির তলদেশে গিয়ে পাথর উত্তোলন করছে তারা সবাই খেটে খাওয়া শ্রমিক। ঝুকিঁপূর্ন এই ‘অক্সিজেন মাস্ক’ ব্যবহারের কোনো নিয়মই তাদের জানা নেই। এ কারণে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় কোয়ারির তলদেশে থেকে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে আরেক জনকে ‘অক্সিজেন মাস্ক’ মুখে লাগিয়ে কোয়ারির তলদেশে পাঠানো হয়। গত ৩ মাস থেকে ভোলাগঞ্জে কোয়ারিতে পাথর লুটপাটে বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জের কোথাও পাথর উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই।

বিষয়টি জানতে শাহাবউদ্দিন ও আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে কল করলে তারা কল রিসিভ করেন নি।

অপরদিকে- ‘অক্সিজেন মাস্ক’ ব্যবহার করে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনার আগে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo