মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০২:৫২ অপরাহ্ন

কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ ‘বিয়ের কাজী’ গ্রেফতার

কোম্পানীগঞ্জে ইয়াবাসহ ‘বিয়ের কাজী’ গ্রেফতার

sylhetlive24.com


সিলেট লাইভ ডেস্ক

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত কাজী সিরাজুল ইসলামের ছেলে কাজী নজরুল ইসলাম। পেশায় তিনি একজন ‘বিয়ের কাজী’। বিয়ে পড়ান, তালাকও করান। পাশাপাশি আরেকটা ব্যবসাও আছে তার। তিনি একজন পেশাদার ইয়াবা ব্যাবসায়ী। স্ত্রীর মাথা ছুয়ে, পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ করেও অবৈধ এ পেশা থেকে সরে আসতে পারেননি । অবশেষে তিনি ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে।

শনিবার মধ্যরাতে আটকের পর রোববার কাজী নজরুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনা শনিবার রাত সাড়ে ১২টার। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে খবর আসে, বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের পাশে ইসলামপুর গ্রামের মানিক মিয়ার গ্যারেজে ইয়াবা কেনাবেচা ও সেবন চলছে। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের পর তাৎক্ষণিক থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুকোমল ভট্টাচার্য, এসআই ইয়াকুব হোসেন ও এএসআই রেজওয়ান ছুটে যান ইসলামপুর গ্রামে মানিক মিয়ার গ্যারেজে।

রাত তখন ১টা, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্যারেজের পাশে একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। এসময় তার পিছু নেয় পুলিশও। অন্ধকারে ইয়াবার নেশায় বুঁদ ওই ব্যক্তি এগোতে পারেনি বেশিদূর। ধরা পড়ে পুলিশের জালে। মুখে টর্চের আলো ফেলে প্রথমে লোকটার চেহারা দেখে পুলিশ। মুখভর্তি দাড়ি, বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই। শরীর তল্লাশী করতে গিয়ে পজামার পকেটে ১০ পিস ইয়াবা পায় পুলিশ। রাত দেড়টার দিকে তাকে নিয়ে আসা হয় কোম্পানীগঞ্জ থানায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে কাজী নজরুল ইসলাম বলে পরিচয় দেন।

এ সময় কাজী নজরুল স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন করেন। সেবনের পাশাপাশি ইয়াবা বিক্রিও করেন। আটক হওয়ার আগে তার কাছে ১৪ পিস ইয়াবা ছিলো। চার পিস তিনি নিজে সেবন করেছেন বলেও পুলিশকে জানান।

নজরুল আরো জানান, একটি ছেলে তাকে ইয়াবা সরবরাহ করে। পরবর্তীতে তিনি আরেকজনের কাছে ওই ইয়াবাগুলো বিক্রি করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুকোমল ভট্টাচার্য জানান, আটক করে থানায় নিয়ে আসার পর স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি নজরুল বিয়ে পড়ানোর কাজী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কেনাবেচার সাথে যুক্ত তিনি। তার স্ত্রীও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অনেকবার কসম কাটার পরও এ পেশা থেকে ফিরতে পারেননি কাজী নজরুল ইসলাম।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জানান, আটকের পর কাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত আলামতসহ রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo