বুধবার, ০৬ Jul ২০২২, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

কামরান এক ইতিহাস, হাজার নেতা গড়ার কারিগর

কামরান এক ইতিহাস, হাজার নেতা গড়ার কারিগর

sylhetlive24.com
ফাইল ছবি।


বিশেষ প্রতিবেদক

সিলেট আওয়ামী লীগের সংগ্রামী নেতা ছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। প্রশংসিত নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্র রাজনীতি থেকে শহর, নগর থেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পৌঁছে ছিলেন তিনি। পৌর চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র। ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে এই জনপ্রতিনিধির নাম। ছিলেন শহর ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিকবারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক। দায়িত্ব পালন করেছেন কেন্দ্রিয় সদস্য হিসেবেও।

সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল কামরান মাথায় সাদা টুপি, মুখে কালো গোঁফ। চোখে সাদা চশমা পড়া লোকটি ছিলেন সিলেটের মানুষের নয়নমণি। ছিলেন ‘জনতার মেয়র’। কামরানের মৃত্যুতে এখনও কাঁদছে নগরবাসী। এ নগরের মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সাথী ছিলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে অসহায় হয়ে পড়া মানুষের জন্য মানবিক হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কামরান।

বিএনপি-জামাত জোট সরকারের সময় কামরানকে লক্ষ্য করে দুই দফা গ্রেনেড হামলা করে জঙ্গিরা। দুই দফাতেই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান কামরান। তিনি করোনায় সংক্রমিত হতে পারেন জেনেও এই দুর্দিনে অসহায় মানুষদের বাড়িতে নিজে খাদ্যসামগ্রী বহন করে নিয়ে গেছেন।

সিলেট আওয়ামী লীগ মানেই ছিল বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আপদে-বিপদে তিনি ছিলেন নেতাকর্মীদের আশ্রয়স্থল। দলের প্রয়োজনে ছুটে বেরিয়েছেন পুরো বিভাগ। কখনো দলীয় প্রতীকের বিজয় নিশ্চিতে, আবার কখনো সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুতে বিরামহীন ছুটে চলা ছিল তার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। তার আলোকশিখার নিচে থেকে আলোকিত হয়েছেন অনেক নেতা। তিনি ছিলেন হাজার নেতা গড়ার কারিগর। শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষেরও পরমাত্মীয় ছিলেন তিনি।

জনবান্ধব এই নেতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। গেল বছরের এই দিনে করোনা আক্রান্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। প্রয়াত কামরানকে এখনো শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করেন সিলেটের সাধারণ মানুষ। তার অভাব অনুভব করে আফসোসও করেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। গত বছরের ১৫ জুন ভোর রাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ ও বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরিবারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া, সিলেটের জনপ্রিয় এই নেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল সোমবার বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে।

গত বছরের গত ৫ জুন ওসমানী মে ডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ৬৯ বছর বয়সী বদর উদ্দিন কামরানের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। পরদিন তাকে শহীদ শামসুদ্দিনে ভর্তি করা হয়। ৭ জুন কামরানকে সিলেটের শহীদ শামসু দ্দিন আহমদ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়।

বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে হন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর কামরান মেয়র মনোনীত হন। ২০০৩ সালে সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জিতে মেয়র পদ ধরে রাখেন তিনি। ২০০৭-০৮ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরও অনেক রাজনীতিবিদের মত কামরানকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা কামরান কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হন।

২০১৩ সালের নির্বাচনে আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়ে মেয়র পদ হারান কামরান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি লড়ে ছিলেন, কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।

১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কামরান। সেই দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রায় দেড় যুগ। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পান কামরান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে দায়িত্বপালন করেছেন।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo