শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

সরকারি নির্দেশনা :
করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে মাস্ক পরুন, নিরাপদ থাকুন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে বাঁচুন এবং পরিবারকে সুস্থ রাখুন। সৌজন্যে : SylhetLive24.com
আজকের গুরুত্বপূর্ণ যত খবর
জকিগঞ্জে চলছে মাইকিং : ঢুকছে পানি, ভাঙলো ৩ নদীর মোহনার ডাইক মাধবপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর গালে ছ্যাঁকা! ছাত্রদল নেতা রুবেল ও রাসেলের জামিন লাভ, কারা ফটকে সংবর্ধনা বজ্রপাতে তিন শিশুর মৃত্যু শিশু অধিকার বাস্তবায়ন সম্পর্কিত জবাবদিহিতা বিষয়ক সংলাপ সিলেটে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করলেন জেবুল সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে : ডা. শিপলু জগন্নাথপুরে মসজিদ নির্মাণের নামে সরকারি স্কুলের জমি দখল সিলেট সদর উপজেলা যুবদল থেকে ডালিম বহিস্কার সিলেটে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত বিশ্বনাথে ধর্ষকের হুমকি, অসহায় মা-মেয়ে উপশহরে পানিবন্দি মানুষের পাশে দিদার রুবেল অ্যাড. জামানের মায়ের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সিলেটে বন্যার্তদের পাশে মহানগর আ. লীগের সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন সিলেট নগরী রক্ষার্থে ‘শহর রক্ষা বাঁধ’ নির্মাণ প্রয়োজন : মহানগর বিএনপি সিলেটের বানভাসী মানুষদের পর্যাপ্ত ত্রাণ দেওয়ার দাবি বাসদের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রুবি আলমের উদ্যোগে খাদ্য বিতরণ সিলেটে জামায়াত-শিবিরের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাসল্ট মামলা ছাত্রদল নেতা রুবেল ও রাসেলের গ্রেফতারে কয়েছ লোদীর নিন্দা দেশের মানুষ সরকারের পাশে, ষড়যন্ত্রকারীদের স্বপ্ন কোনোদিন পূরণ হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ওসমানীনগরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

ওসমানীনগরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অনুমোদনবিহীন ক্লিনিক, ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যু

sylhetlive24.com
ইনসেটে লাল বক্সে বালাগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার ফজলু মিয়া।


নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের ওসমানীনগরে অনুমোদনবিহীন একটি ক্লিনিকে মা ও শিশুর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার তাজপুর কদমতলায় দীর্ঘদিন ধরে ‘মা ও শিশু ক্লিনিক’ পরিচালিত হলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন। এ প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক বিহীন হাতুড়ে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় একাধিকবার নবজাতকদের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে তবুও প্রসাশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না! কারণ এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক একজন সরকার দলের বালাগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগ লীগের সহ সভাপতি।

জানা যায়, ‘উপজেলার তাজপুর কদমতলায় এনজিও সংস্থা সোসাইটি ফর সিলেট রিসোর্স অ্যাডভান্সড কমিউনিটি (স্র্যাক) এর তত্ত্বাবধানে একটি ভাড়া করা বাসায় মা ও শিশু ক্লিনিকটি পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে দু’জন প্যারামেডিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে সন্তান প্রসব, মা ও শিশুর চিকিৎসা প্রদানসহ ওষুধ বিক্রি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিক্রির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র থাকার বিধান থাকলেও এর কিছুই তাদের কাছে নেই। নেই কোনো সনদধারী ডাক্তারও! এমনকি ক্লিনিকে সরকারের ইপিআই (টিকা) কার্যক্রম পরিচালনার কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম শাহরিয়ার।’

এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার ফজলু মিয়া। তিনি বালাগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি। বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বোয়ালজুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনহার মিয়ার অনুসারী। তিনি তার পদের অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠান চালিয়ে আসছেন।

এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের ভুলে একাধিক নবজাতকের মৃত্যুর। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি, ‘তাদের এখানে সম্প্রতি এক নবজাতক মৃত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। আর কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। অবশ্য বাস্তবের সঙ্গে তাদের কথার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।’

বালাগঞ্জ উপজেলার রূপাপুর গ্রামের জিতু মিয়া জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার সন্তান প্রসবের জন্য তার স্ত্রীকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় ডেলিভারির পর তার মৃত সন্তান জন্ম নিয়েছে বলে জানান ক্লিনিকের লোকজন। এরপর সবাই সটকে পড়েন।’

স্থানীয় ভূধরপুর গ্রামের বিষ্ণুগুণ জানান, ‘গত বছরের ১৮ নভেম্বর তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে ভর্তি করা হলে ডেলিভারির সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়। পরে গর্ভবর্তী নারীকে অন্যত্র নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। অথচ ভর্তির এক ঘণ্টা পূর্বেও ডাক্তারের পরীক্ষায় সন্তান সুস্থ ছিল বলে জানান তিনি।’

তাজপুর গুপ্তপাড়া এলাকার ফজলু মিয়া জানান, ‘৫-৬ মাস পূর্বে তার বোনকে সন্তান প্রসবের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ডেলিভারির পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নবজাতকের মৃত্যু হয়। শুধু ডেলিভারির জন্য চার্জ হিসেবে ওষুধ ছাড়া সাড়ে ৪ হাজার টাকা প্রদান করতে হয়েছে বলে তিনিও জানান।’

এই প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ম্যানেজার ও বালাগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি ফজলু মিয়া জানান, ‘বিভিন্ন এনজিও সংস্থার অধীনে গত প্রায় ২০ বছর ধরে ক্লিনিকটি পরিচালনা করছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে এনজিও বদলানোর কারণে শুধু নাম পরিবর্তন করে একই টিম দ্বারা ক্লিনিকটি পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিমাসে গড়ে ২০-২৫টি ডেলিভারি তারা করে থাকেন। ডেলিভারি চার্জ হিসেবে ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন তারা। এক্ষেত্রে রোগীকে ওষুধ ও অন্যান্য খরচ আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়। তাদের নিজস্ব ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় রোগীদের।’

ক্লিনিক পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন আছে কি না জানতে চাইলে ম্যানেজার ফজলু মিয়া প্রথমে অনুমোদন আছে দাবি করলেও পরবর্তীতে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবরে ইপিআই কর্মসূচি বাস্তবায়নের আবেদন করা হয়েছে।

স্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক কয়েছ আহমদ বলেন, স্র্যাক পরিচালিত মা ও শিশু ক্লিনিক পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি পরিচালনার ফান্ড দেশের বাইরে থেকে আসে। এটা কোনো হাসপাতাল নয়, এটা একটা প্রজেক্ট। এর আওতায় গরিবদের স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এস এম শাহরিয়ার বলেন, ওই ক্লিনিক পরিচালনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি আছে কি না আমার জানা নেই। ইপিআই কর্মসূচি পালনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

সিলেট জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, যেকোনো ধরনের ক্লিনিক পরিচালনার জন্য ডাক্তার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন রয়েছে। স্র্যাক মা ও শিশু ক্লিনিক কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এ বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা করবো।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web-NEST- BD
ThemesBazar-Jowfhowo