মঙ্গলবার, ০৫ Jul ২০২২, ০৩:২২ অপরাহ্ন

এবার ঈদে সিলেটে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটকদের আগমন

এবার ঈদে সিলেটে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটকদের আগমন

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ


বিশেষ প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গোয়াইনঘাটের জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার দেশ-বিদেশের রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক, দর্শনার্থীদের পদভারে যেন সমুদ্র সৈকতের মতো লাগছে জাফলংকে। বুধবার সকাল হতে ঢল নামে দেশের অন্যতম এ পর্যটন কেন্দ্রে। এবার ঈদুল ফিতরের আনন্দ পরিবার পরিজন নিয়ে কাটাতে জাফলংকে বেছে নেন দর্শনার্থীরা।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, পুরো জাফলং যেন লোকে লোকারণ্য। পিকআপ, প্রাইভেট কার, বাস ও ট্রাকযোগে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয় বুধবার সকাল থেকে। পুরো এলাকা ছিলো পর্যটকবাহি যানবাহনের সারি। সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের গুচ্ছগ্রাম থেকে তামাবিল পর্যন্ত দীর্ঘকায় যানযটে ছিলো চোখে পড়ার মতো। প্রচন্ড গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েন আগন্তকরা। পর্যটক সেবায় ব্যস্ততায় দেখা যায় পর্যটক স্বেচ্ছাসেবক, নিযুক্ত টুরিস্ট পুলিশ।

জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যটন স্পটের গুরুত্বপূর্ণ সবকটি পয়েন্টে সার্বক্ষনিক পর্যটক নিরাপত্তায় থানা পুলিশের একাাধিক টিমের টহল চোখে পড়ে। সাতার না জানা পর্যটক মৃত্যু হ্রাসে হ্যাণ্ড মাইক হাতে পর্যটকদের সতর্কতামুলক নির্দেশনা দিতে দেখা যায় পর্যটন পুলিশের। লাইফ জ্যাকেট জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে প্রস্তুত থাকতে দেখা যায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের।

গাজিপুর থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সোহেল মাহমুদ তামান্না ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশ এমনকি বহিঃবিশ্বেও জাফলং পর্যটন কেন্দ্রের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। জাফলং আগেও এসেছি আজও আসছি। খুব ভালো এখানকার পরিবেশ প্রকৃতি। পাহাড় টিলা সবুজের সমারোহ,স্বচ্ছ জলারাশি, দিগন্ত জুড়ে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলি পর্যটকদের হৃদয়ে বাড়তি আনন্দের খোরাক জোগায়।’

তারা বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে জাফলংকে দ্রুত পর্যটন অবকাঠামোগত উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসা হলে জাফলং থেকে প্রতি বছর সরকার প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে পারবে। এ থেকে স্থানীয় বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পর্যটনখাতে জড়িত হয়ে কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

পিকআপ ভ্যানে সামিয়ানা টানিয়ে আর বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে এসেছেন তানভির, জিসান,কায়সার,অমল,মিলন,সোহাগসহ ১৬ সদস্যের একটি প্যাকেজ টিম।

sylhetlive24.com/সিলেট লাইভ

কলেজে পড়ুয়া এসব শিক্ষার্থীরা জানায়,

প্রতি বছর ঈদের ঘুরাঘুরিতে তারা জাফলং আসে, এবারও এসেছেন। জাফলংয়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপার ভান্ডার। বেড়াতে আসা পর্যটক,দর্শনার্থীদের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধা প্রসারিত করনে সরকারের প্রতি তাগিদ দেন তারা।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আসা শিক্ষক পর্যটক বলেন, ‘আমি বহুবার জাফলং এসেছি। কিন্তু জাফলংয়ের আগের সেই আগের নয়াভিরাম দৃশ্য নেই।’ জাফলঙয়ের পূর্বের রূপ লাভন্য ফিরিয়ে আনতে ইকো সিস্টেম চালুর পাশাপাশি পর্যটনখাতে সরকারের বিনিয়োগ বাড়ানো এখনই দরকার বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে, ঈদের আগেই সংশ্লিষ্টরা তাদের ধারণা জানিয়ে বলেছিলেন- পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকবে। ঈদ পরবর্তী চার দিন (বুধ থেকে শনিবার পর্যন্ত) স্থানীয় পর্যটকসহ প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ পর্যটক পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় উপস্থিত থাকবেন। সে অনুযায়ী চার দিনে গড়ে আট লাখ পর্যটক উপস্থিত থাকবেন। এতে সিলেটের পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হবে।

সে ধরণাকে বাস্তবে রূপ দিতে আজ (বুধবার) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক সিলেটের জাফলং, সাদাপাথর, বিছনাকান্দি, রাতারগুল, পান্তুমাইসহ বিভিন্ন চা-বাগান দেখতে ছুটে এসেছেন। এ ছাড়া শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারেও ভিড় জমেছে পর্যটকদের।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য- এই অবস্থা থাকবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এতে এই কয়দিনে পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় আট লাখ পর্যটকদের উপস্থিতিতে ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঈদের আগ থেকেই পর্যটকেরা হোটেল বুকিং

জানা যায়, ঈদের আগ থেকেই পর্যটকেরা হোটেল বুকিং শুরু করেন। ঈদের আগে আগেই সিলেটের হোটেল-মোটেলগুলোর ৭৫ শতাংশ অগ্রিম বুকিং হয়ে যায়। যাঁরা হোটেল বুকিং দিয়েছিলেন, তাঁরা ঈদ–পরবর্তী দুই থেকে চার দিন পর্যন্ত বুকিং দিয়ে রেখেছেন।

এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলা পুলিশ ঈদের আগেই সিলেটের ১০টি পর্যটনকেন্দ্র ও জনসমাগমস্থল চিহ্নিত করেছে। এসব কেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাদাপোশাকেও নিযুক্ত রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

সিলেট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা ও গণমাধ্যম) মো. লুৎফর রহমান বলেন, ঈদে পর্যটকদের হয়রানি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জনসমাগমস্থল চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদ পরবর্তী ছুটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিলেট মহানগর ও জেলায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে টহল দল বৃদ্ধিসহ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও পর্যটনকেন্দ্রের ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক করতে লাল নিশানা কিংবা নির্দেশনামূলক বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল জানান, জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের সবকটি পর্যটন স্পষ্টের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থানা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। চুরি ডাকাতি ছিনতাই ইভটিজিং রোধে পোষাকধারী ইউনিটের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও টহল জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে জাফলংসহ সবকটি স্পটে বেড়াতে আসা ভ্রমনপ্রেয়সীদের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান জানান, ঈদসহ সরকারি বিভিন্ন ছুটিতে জাফলংসহ গোয়াইনঘাটের পর্যটন স্পট সমুহে ঢল নামে পর্যটক-দর্শনার্থীদের।এবারও তার ব্যত্যয় হয়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। টুরিস্ট ও থানা পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি পর্যটন স্বেচ্ছাসেবকসহ বাড়তি নজরদারি রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদ আগমন এবং ফিরে যাওয়া পর্যন্ত অবস্থানকালীন সময়ে তাদের যে কোন সহযোগিতায় প্রশাসন পাশে থাকবে।






© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব SylhetLive24.Com কর্তৃক সংরক্ষিত ।

Design BY Web Nest BD
ThemesBazar-Jowfhowo